‘বাহির হইতে দেখ না এমন করে, আমায় দেখ না বাহিরে...’
‘কবিরে পাবে না তাহার জীবনচরিতে।’
উৎসর্গ কাব্যে কবি নিজের জীবনচরিত সম্পর্কে এ-কথা বলেছেন এবং নিজেও আত্মজীবনী রচনা করতে গিয়ে তাঁর পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে মনোলোক বা ভাবলোকের পরিচয়কে উন্মোচন করতে বারবার প্রয়াসী হয়েছেন, সাল-তারিখ সংবলিত জীবন বৃত্তান্তের বিপ্রতীপে।
এই গ্রন্থে অধ্যাপক ঐতিহাসিক রজতকান্ত রায় ইতিহাসের তথ্যকে প্রাধান্য দিয়ে কবির ভাবলোকের সত্যকে অন্বেষণ করতে চেয়েছেন।
তাঁর নিজের কথায়, ‘যে-ইতিহাসকে আমি অন্যত্র ‘‘ইমোশনাল হিস্টরি’’ বলেছি, অনেক আগেই গুরুদেব তার নামকরণ করেছিলেন ‘‘ভাবলোকের জীবনবৃত্তান্ত’’ ও ‘‘হৃদয়ের ইতিহাস’’, তাঁর নিজের জীবনই এই বিষয়ে এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত।’
এই পথ অনুসরণ করতে গিয়েই রজতকান্ত আবিষ্কার করেছেন ‘জীবনদেবতার ইতিবৃত্ত আসলে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও তৎকালীন জগতের ইতিবৃত্ত।’ লেখক অনুভব করেছেন যে রবীন্দ্রসাহিত্যে জীবনদেবতার আবির্ভাব এক ক্ষণিক পরিচ্ছেদ মাত্র নয়। আবাল্য ব্রহ্মচেতনা থেকে উত্থিত এই জীবনদেবতার বারবার রূপান্তর ঘটেছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনে মৃত্যু, ছেদ ও বিরহের আনাগোনায়।
সেই জীবনদেবতা অনুসন্ধানের রহস্যময় দুর্ভেদ্য পথে রবীন্দ্রানুসারী অভিযাত্রার ফসল ‘তিমির অবগুণ্ঠনে’— যা ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের সময় থেকেই বিপুল জনপ্রিয় পাঠক মহলে। যৌবনে চিত্রা কাব্যের মধ্যে যে ‘জীবনদেবতার’ আত্মপ্রকাশ, পরবর্তীকালে রবীন্দ্রসাহিত্যে, গানে, চিত্রকলায় কীভাবে জীবনদেবতা সংলগ্ন হয়ে আছেন, রবীন্দ্রজীবনে তাঁর সঞ্চরণ-পরিক্রমার এক অসাধারণ ইমোশনাল হিস্টরি ‘তিমির অবগুণ্ঠনে’।
জন্ম : ৬ মে, ১৯৪৬ খ্রীস্টাব্দ। পড়াশুনা প্রেসিডেন্সি কলেজে, ইতিহাসচর্চার হাতেখড়িও এই কলেজেই। পরবর্তীকালে গবেষণা করে আসেন কেম্ব্রিজ থেকে। পরিবর্ধিত আকারে গবেষণাপত্রটি ‘সোশ্যাল কনফ্লিক্ট এন্ড পোলিটিক্যাল আনরেস্ট ইন বেঙ্গল ১৮৫৭-১৯৭৭' নামে প্রকাশিত হয়। অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ : আরব্যান রুটস অফ ইন্ডিয়ান ন্যাশনালিজম, ইন্ডস্ট্রিয়ালাইজেশন ইন ইন্ডিয়া ১৯১৪-১৯৪৭, ইন্ডাস্ট্রি এন্ড অনট্রপ্রেনিয়রশিপ। পি এইচ ডি শেষ করে একবছর কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিট্যুট অফ ম্যানেজমেন্টে অধ্যাপনা করেন। অবশেষে প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগ। এখন ওই কলেজেই ইতিহাস বিভাগের প্রধান। পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগেও পড়িয়ে আসছেন। ইউনান, তুরস্ক, মিশর, পারস্য, যবদ্বীপ, বলীদ্বীপ ইত্যাদি ঘুরে এসেছেন। সেই সঙ্গে বুম্থাং-এর জং ও কচ্ছের রণ।