উপন্যাস সমগ্র-এর পঞ্চম খণ্ডে সংগৃহীত উপন্যাসের সংখ্যা ছয়। ‘অসময়’ প্রথম রচনা। প্রায় তিরিশ বছর আগে প্রকাশিত এই রচনাটি লেখকের অন্যতম প্রধান উপন্যাস। সাহিত্য শিল্পকর্মের উজ্জ্বলতায়, মোহময় গদ্যে, সংলাপের শাণিত ভঙ্গিমায় রচিত এই গ্রন্থটি এখনও কম জনপ্রিয় নয়। অকাদেমি পুরস্কার প্রাপ্ত আলোচ্য উপন্যাসটি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় এবং ইংরেজিতেও অনূদিত হয়েছে। ‘প্রচ্ছন্ন’ মূলত মনোবিশ্লেষণধর্মী উপন্যাস। নরনারীর সম্পর্ক, তা হোক না পুরাতন, হয়তো ক্ষীণ—তবু বহুকাল পরে অকস্মাৎ কোনও আলোড়নের ফলে কেন যে বিপন্ন বিষন্ন করে তোলে কোনও কোনও মানুষকে—কে জানে! কেনই বা পেতে হয় আঘাত নতুন করে, দুঃখই বা দেখা দেয় কেন! এই সংসার কি বড় হৃদয়হীন? নাকি অতি সাবধানী? অসুস্থ হবার পর ‘সান্নিধ্য’ উপন্যাসটির নায়িকা কিছুকালের জন্য দূরে এক নিরাময় নিবাসে কাটিয়ে সুস্থ হবার পর আবার নিজের সংসারে ফিরে আসার পর দেখে তার সেই পুরনো অধিকারবোধ কর্তৃত্ব যেন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। স্বামীর সমবেদনা সহানুভূতি, বাড়ির লোকের মায়ামমতার অভাব নেই, তবু সে অনুভব করে তার ফেলে যাওয়া পুরনো আসনটি আর সে ফিরে পাবে না বোধ হয়। ভালবাসার বিচিত্র রূপ। তার চেয়েও বিচিত্র হল, মানুষ অনেক সময়েই তার সবচেয়ে নিকটে থাকা সহজ সরল জিনিসটিকে দেখতে পায় না, অগোচরেই থেকে যায় একটি স্নিগ্ধ সৌন্দর্য, রূপ৷ ‘নিম ফুলের গন্ধ’—এই অর্থে ভালবাসার কাহিনী হলেও কিছুটা জটিল, যদিও অনুভূতির সূক্ষ্মতায় কম মর্মগ্রাহী নয়। অভিনয় পেশা। অন্যান্য পেশার মতন এটিকে অবশ্যই পেশাদারি করে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু পেশার আড়ালে যে-মানুষটি থাকে—তার জীবনের কাহিনী, সুখদুঃখ, বিরোধ, ক্ষোভ, মানসিক গুণাগুণ সম্পর্কে কে আর আন্তরিকভাবে খোঁজখবর রাখে? এলোমেলো জনশ্রুতি, কাগজের বানানো গল্পের চেয়েও এই জীবন যে কত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে ‘এক অভিনেতার মৃত্যু’—তারই কাহিনী। ‘নতুন তারা’ একালের ছেলেমেয়ের সঙ্গে তাদের মা-বাবার মানসিক বিরোধের কাহিনী নয়। ধারণা, বোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির মিল অমিলের পারিবারিক চিত্র। সম্ভবত উভয়পক্ষেই কিছু সত্য আছে, কিছু বা অসত্য! কে জানে!
বিমল করের জন্ম ৩ আশ্বিন ১৩২৮, ইংরেজি ১৯২১। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। জব্বলপুর, হাজারিবাগ, গােমাে, ধানবাদ, আসানসােল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। কর্মজীবন : ১৯৪২ সালে এ.আর.পি.-তে ও ১৯৪৩ সালে আসানসােলে মিউনিশান প্রােডাকশন ডিপােয়। ১৯৪৪-এ রেলওয়ের চাকরি নিয়ে কাশী মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরাগ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক, পরে পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকা ও ‘সত্যযুগ’-এর সাব-এডিটর। এ-সবই ১৯৪৬ থেকে '৫২ সালের মধ্যে। ১৯৫৪-১৯৮২ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৪ ‘শিলাদিত্য মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। বহু পুরস্কার। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৭ এবং ১৯৯২। আকাদেমি পুরস্কার ১৯৭৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার ১৯৮১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার ১৯৮২। ‘ছােটগল্প—নতুন রীতি’ আন্দোলনের প্রবক্তা ।