" মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সমকালীন ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ রচিত 'উলূমুল কুরআন' কুরআন বিষয়ক জ্ঞানের এক সমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ভাণ্ডার। গ্রন্থটি মূলত কুরআনুল কারিমকে সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞানসমূহকে সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করেছে, যা ইলমুত তাফসির এর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের জন্যও সমানভাবে উপযোগী।
এই গ্রন্থে কুরআন মাজিদের অবতীর্ণ হওয়ার ইতিহাস, ওহির ধরণ, সংরক্ষণ ও সংকলনের ধাপসমূহ অত্যন্ত প্রামাণ্যভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, মাক্কী ও মাদানী সুরার পার্থক্য, বিভিন্ন কিরাআতের পরিচয়, তাফসিরের নীতিমালা এবং নাসিখ-মানসুখের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণভাবে ঐতিহ্যগত ইসলামি জ্ঞান ও সমকালীন বোধকে একত্রিত করতে সফল হয়েছেন, ফলে পাঠক কুরআনের জ্ঞানগত গভীরতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভাষার সরলতা ও উপস্থাপনার স্বচ্ছতা। জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোও এখানে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা পাঠককে বিরক্ত না করে বরং আগ্রহী করে তোলে। একই সঙ্গে গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার কারণে এটি উচ্চতর অধ্যয়ন ও রেফারেন্সের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
যারা কুরআনুল কারিমের পটভূমি, তাৎপর্য এবং এর বিভিন্ন শাস্ত্রীয় দিক সম্পর্কে সুগভীর ধারণা লাভ করতে চান, তাদের জন্য 'উলূমুল কুরআন' একটি অনন্য ও অপরিহার্য গ্রন্থ। এটি শুধু একটি পাঠ্যবই নয়, বরং কুরআনের জ্ঞানভান্ডারে প্রবেশের একটি বিশ্বস্ত দিকনির্দেশনা।
প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী শুধু ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে বই রচনা করেননি, তিনি একাধারে ইসলামি ফিকহ, হাদীস, তাসাউফ ও ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ। আর তা-ই নয়, তিনি একজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতে, এমনকি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চেরও বিচারক পদে আসীন ছিলেন। মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হলে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে আসে এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। শিক্ষাজীবনে তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে ইসলামি নানা বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়েও শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, যেখান থেকে অর্থনীতি, আইনশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। আর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি। দারুল উলুম করাচি থেকে পিএইচডি সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছেন ইসলামি ফিকহ ও ফতোয়ার উপর। সর্বোচ্চ স্তরের দাওয়া হাদিসের শিক্ষাও তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করেন। বিচারকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও বিভিন্ন ইসলামি বিষয়, যেমন- ফিকহ, ইসলামি অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্যপদ রয়েছে তাঁর। পাকিস্তানে 'মিজান ব্যাংক' নামক ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে ইসলামি অর্থনীতির প্রসারে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য বইও। তকী উসমানীর বই এর সংখ্যা ৬০ এর অধিক। শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী এর বই সমূহ রচিত হয়েছে ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায়। শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী এর বই সমগ্র এর মধ্যে 'Easy Good Deeds', 'Spiritual Discourses', 'What is Christianity?', 'Radiant Prayers' ইত্যাদি ইংরেজি বই, ও 'তাবসেরে', 'দুনিয়া মেরে আগে', 'আসান নেকিয়া' ইত্যাদি উর্দু বই উল্লেখযোগ্য। এসকল বই ইসলাম প্রসারে, এবং বিভিন্ন ইসলামি ব্যাখ্যা প্রদান ও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।