শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষা-কার্যক্রম-এই তিনের সমন্বয়ে নির্ণীত হয় একটি দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু প্রশ্ন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা কেমন, আর এর মানদণ্ডই-বা কী? পরিতাপের বিষয় এই যে, স্বাধীনতার পর অর্ধশত বছরের বেশি সময় অতিক্রম করার পরেও জাতীয় শিক্ষার আদর্শ মানদণ্ড তৈরি করা সম্ভব হয়নি, শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেও রয়েছে নানামুখী সমস্যা। আমাদের শিক্ষাক্রম কিংবা পাঠ্যক্রমও সার্বিক শিক্ষার উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় আরও বড় প্রশ্ন, দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আমরা কী আশা করতে পারি?
অধ্যাপক তারিক মনজুর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ
মাধ্যমিক এবং উচ্চতর শিক্ষব্যবস্থার হ-য-ব-র-ল নিয়ে জাতির সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। 'প্রথম আলো'র সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত এসব লেখার অধিকাংশই আমার পড়া। সেই পাঠের আলোকে আমি তাঁকে উদ্বোধিত করেছিলাম-লেখাগুলো মলাটবন্দী হওয়া দরকার। এই পোড়ার দেশে, শিক্ষার আকালে ও অনভ্যস্ততায়, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের যুগে হয়তো আমাদের কাছে এই প্যানপ্যানানির কোনোই মূল্য নেই, কিন্তু একজন স্বচ্ছচিন্তার অধিকারী মধ্যবয়স্ক অধ্যাপকের শিক্ষাচিন্তা ও সমাজভাবনা আমাদের দেখার ও ভাবার জায়গায় নিশ্চয় কিছু-না-কিছু যোগ করবে-এ কথা বলা যায়।
শুধু বই ছাপিয়ে কিংবা শিক্ষাক্রম পালটিয়ে অথবা
সময়-অসময়ে দ্রুততায় শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছানোর তাগিদের মধ্যে সার্বিক শিক্ষার মৌলবীজ নিহিত নেই। 'বাংলাদেশের শিক্ষাচিন্তা: স্কুল ও কলেজ পর্যায়' গ্রন্থে ৪৬টি নিবন্ধ ও একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। এসব লেখায় ও সাক্ষাৎকারে তারিক মনজুর বাংলাদেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার বিভিন্ন ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি তুলে ধরেছেন। বইটি প্রকাশের জন্য আমার উস্কানির দায়ভার আমি মাথায় নিয়েই বলছি, বাংলাদেশের সাধারণ পাঠক ও শিক্ষার নীতিনির্ধারকরা লেখাগুলো থেকে হতাশ হবেন না ।
জন্ম ৭ই নভেম্বর, ১৯৭৭; ঢাকায়। পিএইচডি করছেন বাংলা বানান সংস্কার বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রস্তাবনা নিয়ে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। জড়িত আছেন বাংলাদেশ বেতারের কাজেও। শিশুদের জন্য লিখতে এবং তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে ভালবাসেন। এটি তার দ্বিতীয় গ্রন্থ।