জীবনটা বাস্তব না কী স্বাপ্নিক? প্রয়োজন আর প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্য কী? বোধের বহিপ্রকাশ কী প্রেম ? না কী প্রেমের অভিব্যক্তিই বোধ? প্রেম কী চায়? হৃদয় না কী সম্পদ ? আদর্শের উপরে ভিত্তি করে কী বিপ্লব হয় ? না কী বিপ্লবের ফলাফলের উপরে আদর্শ প্রতিষ্ঠা পায় ? কর্মফল কী নিয়তির উপরে নির্ভর করে- না কী কর্মই নিয়তি ঠিক করে দেয় ? আমরা কী ‘যাই ’ না কী ‘থাকি ’? কেউ কী স্পষ্ট করে জানি -কী পেলে সত্যিকারের পাওয়া হবে ? যা পেলাম না তাই কী পাওয়া উচিত ছিল ?
এরকম ঘোর লাগা হাজার প্রশ্ন থেকেই হসন্ত নাটকের প্লট মাথায় আসে। লেখতে গিয়ে মনে হয় যা লেখতে চাচ্ছি তা হচ্ছে না। লেখা শেষ করারা পরেও মনে হচ্ছে -হয় নাই -আরো বলার ছিল । কী বলার ছিল সেটা জানি না ।
হসন্ত নাটকটি প্রথম পাঠ করেন বিখ্যাত প্রচ্ছদশিল্পী-সুলেখক ধ্রুব এষ । তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন । কেন বিস্মিত -বলতে পারেন না । তবে তার বিস্ময় আমাকে আনন্দিত করে ।আমি কেন আনন্দিত? জানি না ।
একবার একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ নিজেদের ‘ইন হাউজ প্রোডাকশন’ হিসেবে হসন্তকে পর্দায় আনার সিদ্ধান্ত নিলেন ।প্রযোজক মিনহাজৃুর রহমান সব আয়োজন করলেন -কিন্তু শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক কারণে তা আর হলো না ।
রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক রহমান রাজু ‘আনর্ত’ নামের একটি নাট্যপত্রিকা সম্পাদনা করেন ।রহমান সাহেব ‘হসন্ত’ পড়ে মুগ্ধ হোন এবং তার পত্রিকায় প্রকাশ করেন । তারপর যারা যারা পাঠ করেছেন মুগ্ধ হয়েছেন বলে মত প্রকাশ করেছেন । নাট্য নির্দেশক দেবাশীষ ঘোষ একবার এ নাটক মঞ্চস্থ করার জন্য সানন্দে উদীচীর ব্যনারে রিহার্সাল শুরু করলেন । কিন্তু শেষ পর্যন্ত মঞ্চস্থ হলো না। এখনো হয়নি ।
হসন্ত এক রহস্য।রহস্য শুধু রহস্যের চাঁদরেই ঢাকা । ‘প্রতিবিম্ব প্রকাশ’ এর প্রকাশক আবুল খায়ের সাহেব আকস্মিকভাবে হসন্তকে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেন।প্রচ্ছদ করে দিলেন ধ্রুব এষ । অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এ হসন্ত প্রকাশ পাচ্ছে ।হসন্তের সাথে পরিচিত ও সংশ্লিষ্ট আগে পরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।