‘অনুরাগে রুধিরাভাস’ ১৯৮৪ সালের নভেম্বরের শেষ কয়েক দিনকে কেন্দ্র করে রচিত এক গভীর মানবিক মোহ-উপন্যাস। মেডিকেলের শেষ বর্ষে পড়ুয়া এক প্রাণোচ্ছ্বল, তরুণের একাকী দীঘা ভ্রমণ থেকেই কাহিনির সূচনা। যাত্রাপথে কাকতালীয়ভাবে তার পরিচয় ঘটে এক সংস্কৃতিমনস্ক, সমাজসচেতন ও হৃদয়বান পরিবারের সঙ্গে। দীঘার সৈকতঘেঁষা পথচলা, দীর্ঘ আড্ডা, গান ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় এক অনুরাগ যা আর নিছক ভালো লাগার আবেশে সীমাবদ্ধ থাকে না। তেইশ বছরের সেই যুবক ক্রমে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ে বয়সে বড়ো, বিবাহিতা ও উচ্চশিক্ষিত এক নারীর প্রতি।
ভাষার গাম্ভীর্য ও ক্লাসিক আবহে অনুরাগে রয়েছে আত্মসমর্পণ, অচেনা টান, প্রায় ভক্তির মতো আবেগ এবং অপূর্ণতার কঠিন উপলব্ধি। মোহের কোমলতা ধীরে ধীরে রুধির হয়ে ওঠে, যেখানে আকাঙ্ক্ষার সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে যায় অসম সম্পর্কের বেদনা, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও আত্মজিজ্ঞাসার রক্তিম ছায়া। “শকুন্তলা” শুধু সৌন্দর্যের ইঙ্গিত নয়; এর মধ্যে রয়েছে স্মৃতি ও বিস্মৃতি, স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতি, নারীর সামাজিক অবস্থান বনাম পুরুষের আকাঙ্ক্ষা। বাংলা গানের স্বর্ণযুগ, সাহিত্যকেন্দ্রিক আলোচনা, নারীত্বের শক্তিমান উপস্থিতি, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সামাজিক বৈষম্যের বাস্তবতা গল্পের সঙ্গে মিশে যায়। এটি নিছক ভ্রমণকথা নয়, বরং এক অন্তর্জগতের যাত্রা যেখানে আত্মজিজ্ঞাসা ও নীরব উপলব্ধি পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। এই বহুমাত্রিক মানবিকতা, সময়ের সাক্ষ্যবহনকারী চেতনা এবং সংবেদনশীল ভাষাভঙ্গিই ‘অনুরাগে রুধিরাভাস’-কে বাংলা সাহিত্যে স্মরণীয় কাব্যস্মৃতির একটি রচনারূপে তুলে ধরেছে।