সৈয়দ এম্দাদ আলী (১লা আশ্বিন ১২৮২ বঙ্গাব্দ) তৎকালীন বিক্রম পুর পরগনা, বর্তমান মুন্সীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে তাঁর প্রপিতামহ বাংলার ৩৬০ আউলিয়ার একজন, যিনি হযরত শাহজালালের সঙ্গী হয়ে ইরাক থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
১৯০৩ সালে তিনি ইণ্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর হিসাবে যোগ দেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে খানসাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯০৩ সালে তিনি নবনূর পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ শুরু করেন। পত্রিকার সম্পাদকীয়তে তিনি লেখেন, “সাহিত্য চর্চার মাধ্যমেই অনগ্রসর মুসলিম সমাজের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।”
বাংলা ভাষায় ঈদ বিষয়ক প্রথম কবিতা যেমন তাঁর লেখা, তেমনি ঈদসংখ্যা প্রচলনের কৃতিত্বও তাঁর। ১৯০৩ সাল থেকে পরপর ৩ বছর তিনি নবনূর পত্রিকার ঈদসংখ্যা প্রকাশ করেন।
বাঙালী মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয়কে স্মরণে রেখে সাহিত্য রচনার প্রতি তিনি গুরুত্ব দিতেন। বলেছেন, “সর্ব প্রথমে ভাবের বিপ্লব ঘটাইবার জন্য আপনারা সাহিত্য সৃষ্টি করিবেন, কিন্তু নিজেদের তালিম ও তমদ্দুনের দিকে দৃষ্টি রাখিয়াই আপনাদের কাজ করিতে হইবে।” বাংলা ভাষায় অতিরিক্ত সংস্কৃতায়ন যেমন তিনি পছন্দ করতেন না, তেমনি অনাবশ্যক আরবী-ফার্সী শব্দ ব্যবহারকেও পরিহার করতেন।
সৈয়দ এম্দাদ আলী বেঙ্গল মুসলিম রেনেসাঁর অন্যতম প্রতিনিধি। ১৯৫৬ সালের ৩রা ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর আহমদ শরীফ একটি প্রবন্ধে লেখেন: “আমাদের নজরুল-পূর্ব যুগের সাহিত্য-প্রচেষ্টা সম্বন্ধে বলা চলে, সেখানে সার্থক সাহিত্য-সৃষ্টি বিরল। কিন্তু তারা উত্তরপুরুষ ও উত্তরসাধকের জন্যে যে-ক্ষেত্র কর্ষণ ও তৈরী করে রাখলেন, তার যথার্থ মূল্য নিরূপিত হলে একদিন আমরা শ্রদ্ধায় ও বিস্ময়ে অভিভূত হবো–এ নিশ্চিত জানি।”