জীবনের রঙ ছড়িয়ে পরেছে কোজাগেরি জ্যোৎস্নার মৃদু আলো আঁধারের সন্ধিক্ষণে| কাব্যিক রাজ্যের ¯^প্নশহর জোড়ে গজারি ও শালপিয়ালের পাতা ঝরার বাতাসে গা শিউরে উঠে, বিদায়ী বিকেলের পর নিস্তব্ধ সন্ধ্যা তারারা আরব বেদুঈন বেদনার শিখায় জ্বলে জ্বলে মহা ব্যস্ত হয়েছে স্মৃতির কাহন রোমন্থনে| নিমিষেই সমস্ত অতীতেরা ডানা ঝাপটিয়ে বর্তমানে চলে আসতে থাকে, সন্ধ্যা মালতি ডালিতে সেজে বৃষ্টিস্নাত মনের কোণ দখলে ব্যস্ত যেনো প্রভাতের গন্ধ ছড়িয়ে ধন্য হয়ে শূন্য শাখের সৌন্দর্যের নজরে মায়ায় জড়িয়ে নিজেকে জাহির করে চলেছে| চলার আনন্দ যেনো ক্ষুধার্ত হৃদপিণ্ডে প্রকৃতির প্রবাহমান বাস্তবতা একে একে এসে আছরে পরছে|
রমজান মাস শেষ হয়েছে আজ তিন সপ্তাহ, পার্ক কিংবা অন্য কোথাও বেড়ানোর প্রোগ্রাম নেই, শরীরে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করতেছি,
ঠান্ডা থেকে কাঁশি হয়েছে পরিবারের প্রধান দু'জনেরই, দাওয়া সেবনের ফলে কিছুটা কমেছে কিন্তু পূরোপুরি ভালো হই নাই, মধ্য বয়েসে যেমনটা হয় সেটা আমরাও এড়িয়ে যেতে পারিনি| অসুস্থ হলে অনেক ˆধর্য্য ধরে কষ্ট করতে হয়, শেষ পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেন যূথিকার বাবার বন্ধু ডাক্তার রুবেল| আমাদের কবি রফি উদ্দিন মারুফ এবং মমিনুল ইসলাম রুবেল নটরডেমিয়ান ১৯৮৫ ব্যাচ, রুবেল ভাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশের বড়ো বড়ো ডিগ্রি নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক শহরে কিং ফাহাদ মেডিকেলের সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে চাকুরীরত| ¯^ পরিবারে সৌদি আরব এসে বসবাস শুরু করেন| আজ ৪০ বৎসর পরে এসেও দুই বন্ধুর মাঝে বেশ রম্য রশিকতায় ভরা সম্পর্ক, শুধুই কী দু'জনের সম্পর্ক! ১৯৮৫ ব্যাচের নটরডেমিয়ানের সকলের মাঝেই একটা রমরমা সম্পর্কের বাঁধন রয়েছে| আমার সাথে কয়েক বার কথা হযেছে রুবেল ভাইয়ের, নটরডেম ৮৫ ব্যাচের বন্ধুদের মিষ্টি সম্পর্কের জন্য অনেক বন্ধুদের সাথে আমরা বেশ পরিচিত| ২৫ নভে¤^র ২০২২ সালে আমি সৌদি আরব আসার পরে যারা অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের মধ্যে রুবেল ভাইয়ার নামও যুক্ত হয়ে থাকবে স্মৃতির ¯^প্ন মালায়|
২০২০ সাল থেকে শখের বশিভূত হয়ে কলম ধরেছি, আমার জানা ছিলো না আল্লাহ আমার নছিবে সুন্দর একটা ধরণীর সরগরম উল্কির মহত্য রেখেছেন| কবি ও লেখক জগতে বেশ পরিচিতি ছড়িয়ে পরেছে ইতিমধ্যে| তাই মিসেস মারুফ পরিচয় ছাড়াও শূভাকংখী এবং পাঠকের হৃদয়ে স্থান পেয়েছি কবি এবং কথা সাহিত্যিক হিসেবে|সৌদি আরব এসে লেখার জগৎ যেনো আরো বেশি বিস্ফোরিত হয়েছে| সেই সুবাদে সবার মাঝে শুভেচ্ছা বিনিময় এক মিষ্টতার মূর্ছনার পরিভাষা হয়ে গেছে|
সন্ধ্যে নামার পরেই জোনাকিরা প্রভা ছড়ায় আঁধারের গায়ে| দেখার তৃষ্ণা থেকে যায় সুপ্ত বাসনার অশ্রুঝরা ব্যালকনিতে| তারায় তারায় ফুল ফুটাবে আসমান, কদম ফোঁটেছে আষাঢ়ের পলে বৃষ্টিস্নাত গুল্মের শূন্য শাখে, দিন ফুরালেও যামিনীর শিউলির সৌন্দর্যে নিজেকে ধরণীর ডালায় সাজিয়ে তোলে, তারপরও হিংস্রতা ভেসে বেড়ায় শ্রাবণ প্রভাতে| শিশিরের গায়ের ¯^প্নগুলো চুরি হয়ে যায় প্রতারকের কৃষ্ণ গহবরে|
২০২৪ সালের পুরোটা রমজান মাস আমরা ইবাদত বন্দেগি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাহিরে যাওয়া হয়ে উঠে নাই, তাই যূথিকার বায়না সে পার্কে যাবে, সৌদি সরকার বাচ্চাদের খেলার মাঠ ও ছুটাছুটির জন্য পার্ক বানিয়ে দিয়েছে প্রতিটি মহল্লায়, বাচ্চারা যেনো একটু মন খুলে খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাস নিতে পারে| ব্যস্ত শহরে কোলাহলের ভীড়ে কোমলমতি প্রাণগুলো দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠে যেনো টবে লাগানো অর্কিড ফুলের ন্যায়| যুথিকাকে বুঝিয়ে বললাম পার্কে যাবোনা আজ| তোমার আব্বু তার নিজের প্রয়োজনে বাহিরে যাবেন, তার ব্যবসায়িক পার্টনার কন্টাক্টর রিয়াদুলের সাথে|
যূথিকার বাবার ব্যবসায়িক পার্টনার রিয়াদুল ইসলাম পিতা মৃত হালিম ফরাজী, মঠবাড়িয়া জেলা পিরোজপুর| সে যূথিকার বাবাকে নিবার জন্য আসবেন, সেই গাড়িতেই আমরা যূথিকার বাবার সাথে বাহিরে যাবো| মেয়েকে শান্ত করার জন্য মেয়ের বাবা অনেক করে বুঝালেন সে আমাদেরকে তার সাথে নিয়ে যাবেন| যূথিকা যেতে রাজি হচ্ছে না এই ভেবে বাবা কি¤^া তার রিয়াদুল কাকার সাথে গেলে শুধু গাড়িতেই বসে থাকতে হয়| বাবাকে বলছে যখন সে খেলতে পারবেনা তখন বাহিরে গিয়ে লাভ কী! “আমি যাবোনা তোমরা যাও”|