মৃত ভেবে যুবককে দাফন করতে গেলে যুবক কবর থেকে উঠে আসে| এটাকে আধ্যাত্মিক ঘটনা হিসেবে প্রচারিত করে যুবককে গোরফকির বানানো হয়| গোরফকিরের আস্তানা ˆতরি হলো| মাতৃত্ব প্রত্যাশী নারীরা গর্ভধারনের তাবিজ নেবার জন্য আসতে লাগলো| অবৈধ ˆদহিক মিলনের ফলে এমন মহিলারা গর্ভবতী হতে লাগলো যাদের স্বামীরা বন্ধ্যা| এটাকে গোরফকিরের তাবিজের কেরামতি হিসাবে প্রচার করা হলো| আস্তানায় অবৈধ দৈহিক মিলনের সুযোগ থাকায় আস্তানা ঘিরে যৌনব্যবসা শুরু হলো| যৌনব্যবসার ফলে আস্তানা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হলো| এই লাভের ভাগ বসাতে ক্ষমতাধররা সিনডিকেটেড হলো| মাদ্রাসায় ছেলে মেয়েরা ধর্ষিতা হয়| নির্যাতিত ছেলে মেয়েরা সিনডিকেটের ষড়যন্ত্রে যৌনদাসত্বে জড়িয়ে যায়| এভাবে পুঁজি, ধর্ম ও ক্ষমতা এই ত্রয়ীর প্রভাবে সমাজ অপরাধপ্রবন হয়ে পড়ে|
সূদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের পেশাগত জীবনে কিছু কিছু সরকারী-বেসরকারী স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার কমিটিতে যুক্ত থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা কিঞ্চিত অর্জন করেছিলাম| কওমী মাদ্রাসার শিক্ষাদানকার্যে জড়িত থাকার সুযোগও পেয়েছিলাম কিছুটা| চিকিৎসক হিসাবে চেম্বারে শিক্ষক কর্তৃক যৌন-নির্যাতিত মাদ্রাসা ছাত্রকে চিকিৎসা করার সুযোগ পেয়েছিলাম|
অভিজ্ঞতায় আমার যেটা মনে হয়েছে, যে কোন কাজ সেটা সমাজের জন্য কল্যানকর হোক বা অকল্যানকর হোক সে কাজে যদি অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিলের এবং ধর্মীয় লেবাস ধারনের সুযোগ থাকে, তবে সে কাজটি জনপ্রিয় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়| সে কাজটি সমাজের জন্য ক্ষতিকর হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে আশংকায় কেহ কাজটির বিরুদ্ধাচরনের সাহস পায় না| এর ফলে সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং অপরাধীরা সমাজে পুনর্বাসিত হতে থাকে| ধীরে ধীরে সৎ মানুষ ও সৎকর্মের হার সমাজে কমতে কমতে পরিস্থিতি এমন হয় যে, অসৎ কর্ম হাসিলের সুযোগে অসৎ মানুষেরাই অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে সমাজের নিয়ন্ত্রক হয়ে পড়ে| তখন দূর্নীতিগ্রস্ত সমাজ অর্থ-বিত্তের সুবিধা নিয়ে সমাজে টিকে থাকার জন্য সৎ মানুষের সৎ উদ্যোগের বিরোধীতা করতে থাকে|
ধর্মীয় বিশ্বাস, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং যৌনতার বানিজ্য-এই তিনটি উপাদান মিলে মিশে যে নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি সমাজে সৃষ্টি হয় সেই ছবিটিকে আলোচ্য ‘গোরফকির’ উপন্যাসটিতে আমি দেখাতে চেষ্টা করেছি| শিল্পী হাচনাতকে প্রচ্ছদটি অংকনের জন্য এবং প্রদীপ কুমার দে’কে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বর্নবিন্যাস সম্পন্ন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি| সর্বোপরি বইটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করে ‘বলাকা প্রকাশন’ এর ভাই জামাল উদ্দিন সাহেব আমাকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন|
নিগার সুলতানা (জন্ম: ২০ মার্চ, ২০০৯) রাজধানীতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা এক তরুণ ও নবীন লেখক। শৈশব থেকেই বই ছিল তাঁর নীরব সঙ্গী, আর পাঠের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই ধীরে ধীরে লেখালেখির প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্ম নেয়। ২০২১ সাল থেকে ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় জমতে থাকে কিছু অনুভূতি ও না-বলা কথা, যা একসময় তাঁকে লেখালেখির জগতে প্রবেশের সাহস জোগায়। “আত্মকথন” তাঁর প্রথম গ্রন্থ, যেখানে নীরব মানুষদের অনুভূতি, আত্মকথন এবং ভেতরের অদৃশ্য সংগ্রামকে সংবেদনশীল ও উদ্দীপনামূলক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।