‘তরুলতা’ নামক এক চঞ্চল মেয়ের শৈশব, কৈশোর এবং বড় হওয়ার স্মৃতিকথা নিয়ে এই কাহিনী আবর্তিত। ঢাকার কুর্মিটোলায় বেড়ে উঠলেও তরুর প্রাণ পড়ে থাকত তার মামাবাড়িতে। শৈশবে মামাবাড়ি মানেই ছিল ডানপিটেমি, দলবল নিয়ে অন্যের গাছের ফল বা খেতের সবজি চুরি করা আর গ্রামের সহজ-সরল প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া। তার এই সোনালি শৈশবে প্রথম বড় আঘাত আসে ছোট মামার আকস্মিক মৃত্যুতে। ১৯৮৮ সালের এক শবে কদরের রাতে অতিরিক্ত মদ্যপানে (পাগলা পানি) ছোট মামার মৃত্যু তরুকে জীবনের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর বড় মামার ছেলে শিমুল ভাইয়া পড়াশোনার জন্য তরুদের ঢাকা বাসায় চলে আসে। শিমুল যেমন ছিল তরুর আস্থার জায়গা, তেমনি তরুও ছিল শিমুল ও প্রতিবেশী মিতা আপুর প্রেমের গোপন বার্তাবাহক। সামান্য কিছু পয়সার বিনিময়ে তরু তাদের চিঠি আদান-প্রদান করত এবং বড়দের চোখ এড়িয়ে তাদের দেখা করার সুযোগ করে দিত।
পরবর্তীতে শিমুল উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমায়। দীর্ঘ তিন বছর প্রবাস জীবনে অনেক কষ্ট সইলেও তরুর পাঠানো নিয়মিত চিঠিই ছিল তার দেশের সাথে একমাত্র যোগসূত্র। তরু তখন বড় হয়ে কলেজে ভর্তি হয়েছে, পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে এবং তার শৈশবের সেই চপলতা ধীরে ধীরে এক স্নিগ্ধ তরুণীর রূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিমুল যখন প্রচুর উপহার নিয়ে দেশে ফেরে, তখন আনন্দের মাঝেও এক ধরনের বিষণ্ণতা দানা বাঁধে। শিমুল তার প্রিয় বোন তরুর জন্য পিয়ানো ও সোনার ব্রেসলেটের মতো দামি উপহার আনলেও মিতা আপুর সাথে তার সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে না। মিতা আপুর দীর্ঘ বছরের অপেক্ষা আর ত্যাগের মূল্যায়ন যথাযথভাবে না হওয়ায় মিতার পরিবারে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গল্পের শেষে শিমুল যখন আবারও প্রবাসে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়, তখন ১৬ বছরের তরু উপলব্ধি করে যে বড় হওয়ার সাথে সাথে সম্পর্কের সমীকরণগুলো অনেক বেশি জটিল হয়ে ওঠে। শৈশবের সেই সহজ ভালোবাসা আর কৈশোরের ‘পোস্টউম্যান’ ভূমিকার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অভিমান ও দীর্ঘশ্বাসের গল্পটি এক অমীমাংসিত পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছায়।