শিশুদের মনোজগৎ জটিলতাহীন, নিষ্কলুষ আর সুন্দর। তারা তাদের মতো করেই পৃথিবীকে দেখে এবং দেখে দেখেই ভাবতে শেখে। এই দেখা ও শেখার মধ্য দিয়েই একজন শিশু ধীরে ধীরে পরিপক্ক মানসিকতার মানুষে পরিণত হয়। শিশুরা বয়সে ছোট হলেও তাদের অনুভূতি কিন্তু তুচ্ছ করার মতো নয়। তাদের জগৎ ছোট বলেই অনুভূতি তীব্র, সুখ-দুঃখ কিংবা মান-অভিমান বেশ স্পষ্ট।
"বুবুনের বাদামী সোয়েটার" গল্পের বুবুন নিজের খেয়ালে থাকা মিষ্টি একটি বাচ্চা। তার জীবনের চাহিদা খুব বেশি নয়। কিন্তু টানাপোড়েনের জীবনে সেই ছোট্ট চাহিদা যখন পূরণ হয়ে উঠে না, ধীরে ধীরে তার অভিমান তখন গাঢ় হতে থাকে। জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হাজার রং শিশুমনে তৈরি করে অদ্ভুত দোলাচল।
"বুবুনের বাদামী সোয়েটার" আমার প্রথম প্রকাশিত শিশুতোষ গল্পের বই। যারা আমার পাঠক, তাদের দীর্ঘ দিনের আবদার ছিল বাচ্চাদের জন্য যেন আমি কিছু লেখি। আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে বইয়ের সান্নিধ্যে। বই ছিল আমার সর্বক্ষণের বন্ধু। তাই আমি নিজেও চেয়েছি এই সময়ের ইলেকট্রনিকস ডিভাইসে আসক্ত বাচ্চারা বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। সেই ফলশ্রুতিতে খুব সরল ভাষায় এবং যথাসম্ভব আকর্ষণীয়ভাবে বইটি লিখতে ও প্রকাশ করতে চেয়েছি যাতে ছোট্ট সোনামণিরা বইটি আগ্রহ করে বইটি হাতে নেয়, নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে যেন পড়তে শুরু করে। বইয়ের সাথে সময় কাটানোর অভ্যাস তৈরি হয়তো একদিনে সম্ভব নয়, এই পরিবর্তন হয়তো হঠাৎই আসবে না। তবে একবার বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে সেই বন্ধুত্ব আজীবন অটুট থাকবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
পৃথিবীর সব বুবুনেরা আনন্দে থাকুক। এই পৃথিবী প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ স্থান হোক।
মানুষের কর্ম ও চিন্তাভাবনার মধ্যেই আসল পরিচয় নিহিত বলে আফিফা পারভীন বিশ্বাস করেন। তাই তার লেখাই তার পরিচয় বলে তিনি মনে করেন। তবে সাধারণভাবে লেখক নিজেকে একজন মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ বলে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার প্রথম বই 'এসো নীপবনে' প্রকাশিত হয়েছে একুশে বইমেলা ২০২১-এ। এরপর 'ফেরারি বসন্ত,' 'যাও পাখি বলো তারে,' 'বাতাসে বহিছে প্রেম,' 'শ্বেত পাথরের মালা,' 'কাচবন্দি ভালোবাসা' ও 'অ-তিথির অতিথি' প্রকাশিত হয়েছে। আফিফা পারভীন পড়তে ও লিখতে ভালোবাসেন। যতদিন পরম করুণাময় ইচ্ছে করবেন, ততদিন এই লেখক লিখে যেতে চান।