ভারতীয় উপমহাদেশে স্বাধীনতার সূর্য যখন পরাধীনতার কালো মেঘে ঢাকা, তখন সেই অন্ধকারে ধ্রুবতারার মত জ্বলে উঠেছিলেন একদল অকুতোভয় আলেম। তাঁরা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসৈনিক, ছিলেন ইসলাম রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ সিপাহসালার। তাঁদের ত্যাগ আর সাহসিকতা ছাড়া উপমহাদেশে মুক্তির সূর্যোদয় কল্পনাই করা যায় না। ব্রিটিশ বেনিয়াদের অপশাসন আর শোষণের শিকল ভাঙতে গিয়ে তাঁদেরকে সইতে হয়েছে অমানবিক নির্যাতন। কারো ঠিকানা হয়েছে অন্ধকার কারাপ্রকোষ্ঠ, কেউ হাসিমুখে বরণ করেছেন ফাঁসির দড়ি, আর কারো নছীবে জুটেছে কালাপানির বিভীষিকাময় নির্যাতন। মাওলানা মুহাম্মাদ জাফর থানেশ্বরী ছিলেন সেই মহাকাব্যিক ত্যাগের এক জীবন্ত কিংবদন্তী। দীর্ঘ পঁচাত্তর মাইল বিস্তৃত জনমানবহীন দ্বীপে তিনি সীমাহীন কষ্টে দিনযাপন করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগের সত্যনিষ্ঠ আখ্যান কেবল একজন বন্দির আত্মস্মৃতি নয়, বরং এটি সেই পরাধীন যুগের মুজাহিদদের ঈমানী তেজ ও অদম্য সাহসের এক জীবন্ত দলীল। এটি আপনাকে জানাবে কীভাবে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও আলেম সমাজ স্বাধীনতার রঙিন স্বপ্ন বুনেছিলেন। কীভাবে 'তরীকায়ে মুহাম্মাদীয়া' আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁরা সমাজ থেকে শিরক ও বিদ'আতের অন্ধকার দূর করে তাওহীদের আলো ছড়িয়েছিলেন।
বইটির প্রতিটি পাতায় আপনি খুঁজে পাবেন আন্দামানের জনমানবহীন দ্বীপের বিভীষিকা, আদিবাসীদের বিচিত্র জীবনধারা এবং ব্রিটিশদের নির্মম আইনী ধূম্রজালের আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম বৈষম্যের করুণ চিত্র। আধুনিক প্রজন্মের জন্য এই বইটি এক অনন্য পাথেয়। যা শেখাবে সহায়-সম্বল হারিয়ে কীভাবে একজন মুমিন চরম বিপদেও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে অটল সংকল্প নিয়ে টিকে থাকে। উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলনের এই হারানো অধ্যায়ের লোমহর্ষক কাহিনী ঝিমিয়ে পড়া ঈমানী চেতনাকে জাগ্রত করতে এবং সত্য-ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অদম্য সাহস জোগাতে ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।