একটি তীক্ষ্ণ বাক্য, একটি অপমানজনক আচরণ কিংবা অন্যায় বিচারের মাধ্যমে অন্যের অধিকার হরণ কখনো কখনো মানুষের অন্তরে এমন ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা বছরের পর বছর ধরে রক্তক্ষরণ ঘটাতে থাকে। অথচ ইসলাম এমন এক মহান জীবনব্যবস্থা যেখানে মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষাকে ঈমানের অপরিহার্য অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। কথায়, কাজে বা আচরণে কাউকে কষ্ট দেওয়া কেবল সামাজিক অনাচার নয়; বরং এটি এমন এক অপরাধ, যার হিসাব আল্লাহর দরবারে কঠোরভাবে নেওয়া হবে। তবুও আজকের সমাজে অপমান, গীবত, অপবাদ, প্রতারণা, অবিচার ও অধিকারহরণের মাধ্যমে মানুষে মানুষে কষ্টদানের এক নীরব মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবার থেকে সমাজ, ব্যক্তিজীবন থেকে সামাজিক পরিমণ্ডলে এই ব্যাধি মানবিক সম্পর্ককে ক্রমশ বিষাক্ত করে তুলছে।
এই গ্রন্থে কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে মানুষের প্রতি কষ্টদানের বিভিন্ন রূপ, তার ভয়াবহ পরিণাম এবং এ থেকে বাঁচার কার্যকর উপায় গভীর বিশেষণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় দেখিয়েছেন কিভাবে একটি অসতর্ক বাক্য, একটি অবহেলিত আচরণ কিংবা একটি সামান্য অন্যায় মানুষের জীবনে অমোচনীয় দুঃখের জন্ম দেয় এবং আখিরাতে তার কি ভয়াবহ জবাবদিহিতা অপেক্ষা করছে।
বইটির প্রতিটি অধ্যায় পাঠককে নিজের অন্তরের সামনে দাঁড় করাবে। মনে করিয়ে দেবে একজন প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি, যার হাত ও জিহ্বা থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। একই সঙ্গে শেখাবে কিভাবে নিজের চরিত্র, কথা ও আচরণকে শুদ্ধ করে একজন মানুষ দয়া, সহমর্মিতা ও ন্যায়ের আলোয় আলোকিত জীবন গড়ে তুলতে পারে। মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো এবং মানুষের হৃদয় জয়ের মহৎ শিক্ষা অর্জনের জন্য এই গ্রন্থ এক মূল্যবান দিশারী। আশা করা যায়, এ গ্রন্থের প্রতিটি পৃষ্ঠা পাঠকের অন্তরে মানবিকতা ও ঈমানী সচেতনতার আলো জ্বালাবে এবং তাকে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে অবিচল থাকার অনুপ্রেরণা যোগাবে ইনশাআল্লাহ।