মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানীতে “তামাদি আইনের ব্যাখ্যা” বইটি প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি। তামাদি আইনের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ১৪২৫ সালে সর্বপ্রথম সম্রাট থিওডোসিয়াস (Emperor Theodosius) বিধিবদ্ধ তামাদি আইন প্রনয়ন করেন। এরপূর্বে তামাদি সংক্রান্ত বিষয়গুলো রোমান আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো যদিও রোমান সিভিল আইনে সব ধরনের মামলা দায়েরের কোন সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না। ১৪২৫ সালের তামাদি আইনটি কোন পরিপূর্ণ তামাদি আইন ছিল না। ১৫২৩ সালে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে পরিপূর্ন তামাদি আইন প্রবর্তিত হয় যাকে জেমস স্ট্যাটিউট ১৫২৩(James Statute of 1523) নামে অবহিত করা হয়। এভাবে ধীরে ধীরে ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ১৭৩৯ সালে তামাদি আইন প্রনয়ন করা হয়। এরপর ১৮৫৯ সালে সর্বপ্রথম ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় পরিপূর্ণ বিধিবদ্ধ তামাদি আইন প্রনয়ন করা হয় যা ১৮৬২ সালে কার্যকর হয়। এরপর ১৮৭১ সালে তামাদি আইন আরো সুসংহত করা হয়। অতপর ১৮৭৭ সালে নতুন করে তামাদি আইন প্রনয়ন করা হয় এবং ১৮৭৭ সালের তামাদি আইনের মাধ্যমে ১৮৭১ সালের তামাদি আইনটি বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ১৮৭৭ সালের তামাদি আইনটি বাতিল করে তামাদি আইন, ১৯০৮ প্রনয়ন করা হয় যা ১৯০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তামাদি আইন প্রনয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমান তামাদি আইনটি একটি সুপ্রাচীন আইন। এত সুপ্রাচীন এবং সুবৃহৎ একটি আইনের প্রতিটি ধারায় এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদে বর্নিত প্রতিটি শব্দকে উচ্চ আদালতের নজিরের (Precedence) আলোকে ব্যাখ্যা করতে গেলে স্বল্প পরিসরে তামাদি আইনের উপর বই লেখা সম্ভব নয়। এছাড়াও তামাদি আইনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কতিপয় নীতি বা মতবাদ (Principle and doctrine) এবং অন্যান্য আইন যেমন Easement Act, 1882 এর উপর দাঁড়িয়ে আছে।
তথাপিও আমার নিকট মনে হয়েছে, তামাদি আইনের সকল বিষয়সমূহের সাথে আদালতের প্রয়োগিক বিষয়সমূহের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তামাদি আইনের মতো একটি সুবৃহৎ আইনকে অত্যন্ত সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। অনুরূপ চিন্তা ভাবনা থেকেই আমি এই গ্রন্থটি প্রকাশ করার চেষ্টা শুরু করি। তামাদি আইনের প্রতিটি ধারাকে আমি একাধিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করেছি এবং এমনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি যাতে একজন সাধারণ পাঠকও সহজে বুঝতে পারেন।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সহিত প্রাসঙ্গিক ঈধংব Case Reference মামলার ফ্যাক্টসহ তুলে ধরা হয়েছে।