‘যদি একটিবার ফিরে আসতে/জীবনের শেষ ভালোবাসার আশা/সান্ত্বনার অনল আর বুকভাঙা ব্যথা মুছে/আমি ওই প্রেমসিন্ধুর ওপারে পাড়ি জমাতাম (যদি একটিবার ফিরে আসতে) --------কবি দিবাকর বালার এই কবিতার পঙ্ক্তি তার বিরহ-বেদনাতুর অন্তরের রক্তাক্ত ছবি। যে ছবির দিকে তাকালে আমাদের অন্তরও বেদনায় ক্ষতবিক্ষত হয়। কবি প্রিয়াকে একটিবার দেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চান।
কবি দিবাকর বালাকে বিরহের কবি বললে ভুল বলা হবে না। ‘যদি একটিবার ফিরে আসতে’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি শব্দ বিরহের কথা বলে। কবি দিবাকর বালা দুঃখ-যন্ত্রণা-বেদনায় জর্জরিত হয়ে প্রিয়ার অপেক্ষায় থেকে থেকে ক্লান্ত-শ্রান্ত। তারপরও তিনি অপেক্ষা করতে চান অনন্ত কোটি বছর প্রিয়ার সাথে মিলনের আশায়। তিনি তার ‘উ™£ান্ত প্রেম’ কবিতায় লিখেছেন-‘অনন্ত কোটি বছর ধরেও আমি/তোমারি অপেক্ষা করে যাব/ওই পড়ে থাকা ভয়াল হিমাদ্রির/শ্বেতনীল হিমশৈলের নিচে’।
কবির চঞ্চল চিত্ত প্রিয়ার শোকে অস্থির, ব্যথায় জর্জরিত। কবি প্রিয়াকে শোনাতে চান তার বুকের মাঝে জমে থাকা বেদনার কথা। তাইতো তিনি আর্তনাদ কবিতায় বলেছেন-‘সুইটি---/তুমি কি শুনতে পাও/একজন হৃদয় ভাঙার/সকরুণ আর্তনাদ/শোকে-তাপে জর্জরিত হয়ে/অশ্রুধারায় ভেসে যায়/তার সুকোমল বক্ষ’ ।
অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় কবি প্রেমিক হৃদয়ের বিরহের ছবি একেছেন এ কাব্যগ্রন্থে। আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ের অন্তরে জমে থাকে প্রিয়াকে না পাওয়ার কষ্ট-যন্ত্রণা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তিনি তুলে ধরেছেন ‘যদি একটিবার ফিরে আসতে’ কাব্যগ্রন্থে। এই ব্যতিক্রমধর্মী কাব্যগ্রন্থটি প্রত্যেকটি বিরহে কাতর প্রেমিক হৃদয়কে ছুঁয়ে যাবে আমার বিশ্বাস। বইটির পাঠকপ্রিয়তা এবং কবির সাফল্য কামনা করছি।