ইসলামে জ্ঞান অর্জন ইবাদত। মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে জ্ঞানচর্চা । শিক্ষাব্যবস্থায় আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সংযোগ এবং ঈমানের সমন্বয়ই তাওহীদভিত্তিক শিক্ষা। জ্ঞানের ইসলামীকরণের প্রক্রিয়া, সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ও রূপান্তরমূলক শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীর চরিত্র ও চিন্তাজগতে আমূল পরিবর্তন আনে এবং শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানবসত্তা (ইনসানে কামেল) হিসেবে প্রস্তুত করে। ইসলামিক জ্ঞানতত্ত্বে বা জ্ঞানের দর্শনে জ্ঞান পবিত্র, যা শিক্ষায় পূর্ণতা ও পবিত্রতা আনে, অর্ন্তদৃষ্টি জাগায় এবং জীবনের বৈপরীত্যগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ককে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে।
বইটি পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার একতরফা দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতিগত লক্ষ্য ও কাঠামোর একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা। যেটি জ্ঞানের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে এবং সমাজতাত্ত্বিক আলোচনার বিতর্কিত ইস্যুগুলো বিশ্লেষণ করে। বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক বিকাশ এবং বিজ্ঞান আর যুক্তিবাদের দিকে গুরুত্বারোপকারী শিক্ষাপদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি দেখায়- কীভাবে ইসলামি জ্ঞানতত্ত্ব ইহকাল ও পরকালকে সংযুক্ত করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শন প্রদান করে। যা পাঠককে বোঝাপড়া ও পর্যবেক্ষণের নতুন এক জগতে প্রবেশে সহায়ক, যেখানে রূপান্তর হলো- অস্তিত্বের সিঁড়িতে ঊর্ধ্বমুখী এক অপ্রতিরোধ্য যাত্রা।
বইটি পড়ে পাঠক বুঝতে পারবে- তারা যে জ্ঞান অর্জন করছে বা তার শেখার শিকড় কোথায়, কীভাবে নতুন জ্ঞান উৎপাদন করতে হবে, কিভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় বিভাজিত জ্ঞান মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার ভাঙন ঘটাচ্ছে এবং ডিগ্রি পাওয়ার আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকার ভেতরেই অর্থবহ কর্মের ভিত্তি নিহিত না থাকা। ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষা হওয়া উচিত সামগ্রিক, যা মানুষের আত্মা, মন এবং শরীরের সুষম বিকাশ ঘটাতে সক্ষম। ইসলামি শিক্ষা দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ এই বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সামগ্রিক এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা।