সমকালীন প্রেক্ষাপটে ইসলামি আইনের প্রয়োগ গভীর পদ্ধতিগত সংকটে আবদ্ধ। বিদ্যমান চর্চায় প্রায়শই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে সংকীর্ণ বিশ্লেষণ, নৈতিক ও উদ্দেশ্যনির্ভর অনুধাবনের পরিবর্তে আক্ষরিক পাঠ, বহুমাত্রিক বাস্তবতার পরিবর্তে একমাত্রিক ব্যাখ্যা, বহু-মূল্যবোধের পরিবর্তে দ্বিমুখী শ্রেণিবিন্যাস, পুনর্গঠনমূলক প্রয়াসের পরিবর্তে বিনির্মাণবাদী প্রবণতা এবং উদ্দেশ্যকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে নিছক কার্যকারণভিত্তিক ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। এর ফলে বৃহত্তর উদ্দেশ্য, অন্তর্নিহিত নীতিমালা ও কার্যকারিতার প্রতি মনোযোগ ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।
যৌক্তিকতা নিয়ে মতবিরোধ বা অতিরঞ্জিত দাবিসমূহ আধ্যাত্মিক দীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক অসহিষ্ণুতা, সহিংসতামুখী মতাদর্শ, দমনমূলক চর্চা এবং কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে তীব্র করে তুলেছে। এমতাবস্থায় ইসলামি আইন ও ফিকহ স্কুলসমূহের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিভাজন অতিক্রম করে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একান্ত প্রয়োজনীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক মাকাসিদভিত্তিক দর্শন ও পদ্ধতি।
গ্রন্থটি আইনি বিষয়সমূহকে মানবকল্যাণের উচ্চতর দর্শন ও নৈতিক স্তরে উন্নীত করতে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইসলামী সমাজের সংস্কৃতি ও চিন্তাধারায় নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করে। মাকাসিদকে মানবাধিকার, সামাজিক কল্যাণ, ন্যায্যতা, ন্যায়বিচার, সহানুভূতি ও উন্নয়নের আলোকে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ব্যাখ্যা করে। বইটি স্পষ্ট করে- নাম, কাঠামো বা কৌশল যাই হোক না কেন; নতুন সময়ের ইজতিহাদ পদ্ধতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত উদ্দেশ্য-ভিত্তিক দর্শনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং মানবকল্যাণের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন।
মিশরীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক জাসের আওদা মাকাসিদে শরীয়াহর উপর একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ। ‘মাকাসিদ ইনস্টিটিউট’ নামক একটি থিংকট্যাংকের প্রেসিডেন্ট। ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা, দ্য ইউরোপিয়ান কাউন্সিল ফর ফতওয়া এবং ফিকহ একাডেমি অব ইন্ডিয়ার সদস্য। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস থেকে ইসলামী আইনের উপর একটি এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে সিস্টেম অ্যানালাইসিসের উপর আরেকটি পিএইচডি করেছেন। এর আগে পড়াশোনা করেছেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। শৈশবেই তিনি কোরআন হিফয করেন। তিনি কানাডা, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, কাতার, ইউএই এবং বাহরাইনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ইসলাম ও ইসলামী আইনের উপর বক্তব্য দিতে অনেক দেশ সফর করেছেন। আরবী ও ইংরেজিতে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৫টি। এগুলোর কোনো কোনোটি অন্তত ২৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।