কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই যমদূত গল্পটি লেখা শুরু করতে হয়েছিল। এক বিশেষ তাগিদ থেকেই কলম ধরেছিলাম। কয়েক পৃষ্ঠা এগোতেই মূল চরিত্র রুশাদ-এর প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে সেই টান এতটাই গভীর হয়ে ওঠে যে, দিন-রাত তার নামই যেন মনের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। তাকে ভাবলেই ভেতরে এক ধরনের অ্যাকশনঘন উত্তেজনা কাজ করত, যেন মুহূর্তেই রক্তে জোস উঠে যায়। সেই অনুভূতিই ইঙ্গিত দেয়, রুশাদকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কিছু বলার আছে। তবে সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ পাঠকদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
গল্পটিকে বিস্তৃত আকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ, সময় আমার হাতে ছিল না। তাই সীমিত পরিসরের মধ্যেই একটি ডার্ক অ্যাকশন থ্রিলার উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে সমাপ্তি নিয়ে পাঠকদের মনে নানা প্রশ্ন বা ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সমাপ্তির অন্তরালে হয়তো লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন ইঙ্গিত।
যমদূত এর মূল লক্ষ্য ছিল তীব্র মাত্রার অ্যাকশনকে সামনে আনা। সেই কারণে গল্পজুড়ে সহিংসতার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। কিছু লড়াইয়ের দৃশ্য বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে গিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অ্যাকশনের গতি বজায় রেখে তার সঙ্গে রহস্য ও থ্রিলারের উপাদান মিশিয়ে একটি স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কতটা সফল হয়েছি, সেই মূল্যায়ন পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিলাম।
থ্রিলার ও ক্লাসিক ঘরানায় আরও অনেক কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠকদের সমর্থনই আমার লেখার প্রেরণা। অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
মাহফুজুল হক রিফাত একজন তরুণ থ্রিলার লেখক। তার জন্ম নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যোশর পাড়া গ্রামে। রহস্য, অপরাধ ও মানবমনের অন্ধকার দিক তার লেখার প্রধান উপজীব্য। টানটান উত্তেজনা, দ্রুতগামী কাহিনি এবং মনস্তাত্ত্বিক গভীরতার সমন্বয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের জন্য স্বতন্ত্রধারার থ্রিলার সাহিত্য নির্মাণের চেষ্টা করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি সাইকোলজি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন, যা তার সাহিত্যচর্চায় মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।