সিমান্ত ওদের কলোনীতে থাকে জেনে আরো অবাক হল রিনি। পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে ওদের দেখা। রিনি অবশ্য হেঁটে যাচ্ছিল রেস্টুরেন্টটার দিকে। সিমান্ত ওকে পেছন থেকে ডাক দেয়।
-আপনি রায়ের বাজার কলোনীতে থাকেন না?
- হ্যাঁ কিন্তু আপনি জানলেন কিভাবে?
- আমি পাঁচ নাম্বার কোয়ার্টারে থাকি।
-ও আচ্ছা, এখন কি রেস্টুরেন্টের দিকেই যাচ্ছিলেন?
-হ্যাঁ দুপুর হয়ে গেছে তাই ভাবলাম কিছু খেয়ে দেয়ে আবার লাইব্রেরী ওয়ার্ক করতে ফিরব। আপনিও বোধ হয় ওদিকেই যাচ্ছিলেন।
- আমার কাজের চাপটা একটু বেশী, লেখাটা কালই তো সাবমিট করতে হবে তাই। লাঞ্চের পর আমাকেও বসতে হবে। তবে হয়ত অল্প কিছু সময় লাগবে আর।
দুজনেই রেস্টুরেন্টে এসে একটা টেবিলে বসে। পছন্দ সই খাবারের অর্ডার দিয়ে খেতে খেতে ওরা জেনে নেয় একে অপরকে।
-আপনি কত নম্বর কলোনীতে থাকেন জানা হল না।
-ও আচ্ছা, আমি থাকি চার নম্বরে।
-চার নম্বরের বাবু আর শাকিল তো আমার বন্ধু। মানে ছোট বেলায় একই মাঠে খেলা-ধুলা করেছি। এখন অবশ্য যোগাযোগ একটু কমে গেছে। আর অনেক দিন দেখাও হয় না ওদের সাথে।
- বাবুর বোন মায়া তো আমার বান্ধবী।
এভাবেই লাঞ্চ শেষ করে ওদের প্রথম দিনের আলাপটা শেষ হয়। তবে এর পর ওদের অনেক বার দেখা হয়েছে লাইব্রেরীতে কখনোবা কলোনীতে। তবে লেখাপড়া ক্যারিয়ার এসব নিয়েই বেশী কথা হত।
সিমান্ত স্কলারশীপ নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে। রিমি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বাইরে পড়াশুনার জন্যে চেষ্টা করছে। ওদিকে বিশ্ববিদ্যায়ে পড়া কালীন ওর জন্যে অনেক প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু রিমির পছন্দ ছিলনা বলে বাবা মাও বেশী চাপ দেননি। সিমান্ত বিদেশ যাওয়ার পর প্রথম প্রথম কথা হত। তবে শেষের দিকে সিমান্ত পিএইচডি-র গবেষণা নিয়ে অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়ে। রিমি এরই মধ্যে সিমান্তের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। যোগাযোগটা আর হয়নি। মেয়ের বিয়ের জন্যে বাবা মায়ের দিক থেকে যেন একটু বেশী প্রচেষ্টা চলতে থাকে। তাই একবার ভাবে সিমান্তদের বাসায় খোঁজ নিবে, নাকি ওর বন্ধু বাবু শাকিল ওদের কাছে যাবে। একটু সঙ্কোচ লাগে ব্যপারটা। একেবারে অপরিচিত লোকের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসা সেটাওতো রিমি মেনে নিতে পারছে না। কেবলই শাহবাগের রেস্টুরেন্টে ওদের আলাপ, কথোপকথন কিংবা আড্ডার কথা মনে পড়ে।
এরই মধ্যে গড়িয়ে গেল কয়েকটি বছর। বদলে গেল দেশের রাজনৈতিক পট। সিমান্ত দেশে ফিরেছে। সে এখন পিএইচডি শেষ করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বেতনে চাকুরী করছে। দেশে ফিরেছে বিয়ে করবে বলে। তার বাবা মা বলেছে তার কোন পছন্দ থাকলে জানাতে। হঠাৎই মনে পড়ে গেল রিমির কথা। আহা তাই তো পিএইচডির গবেষণায় সে এত ব্যস্ত ছিল যে রিমির সাথে সে যোগাযোগ রাখতে পারেনি। চার নম্বর কলোনীর বাবুর সাথে দেখা হল বিকেলে। বাবু জানাল রিমির বিয়ে হয়ে গেছে প্রবাসী এক ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে। বিয়ের আগে রিমি কয়েকবার এসেছিল, তোমার সাথে যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চেয়েছিল। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ওর বাবা-মা গত বছর কলোনী ছেড়ে চলে গেছেন। সিমান্ত ভাবতে থাকে জীবন বোধ হয় তাকে সবদিক থেকে সফলতা দিতে পারলোনা।