বইটি হিন্দুত্ববাদী শক্তি এবং তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট শোরগোল-হট্টগোল, ভয় ও হতাশার মাঝে সম্ভাবনার এক নতুন পৃথিবী দেখায় এবং আশার নতুন প্রদীপ জ্বালায়। এটি কেবল নতুন পথই দেখায় না, বরং সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। এটি স্পষ্ট করে দেয়, হিন্দুত্বের আদর্শিক ভিত্তি কতটা নড়বড়ে এবং দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তাদের কর্মসূচি কতটা অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ এবং দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলো নিজেদের একটি আদর্শিক আন্দোলন হিসেবে জাহির করে এবং দাবি করে- দেশের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য তাদের কাছে বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। এ বই সেই দাবিগুলোর আসল সত্য উন্মোচন করে।
বইয়ের প্রথম অংশ পাঠককে এ শক্তিগুলোর সাথে একমাত্র আদর্শিক স্তরেই পরিচিত করায় না, বরং তাদের মূল দাবিগুলোর সাথে বিতর্কের জন্য প্রয়োজনীয় রসদও সরবরাহ করে।
দ্বিতীয় অংশ আমাদের জানায়, হিন্দুত্বের উত্থান তার আদর্শিক শক্তির কারণে নয়, বরং বিরোধী শক্তিগুলোর আদর্শিক পশ্চাদপসরণই এর মূল কারণ। এই ৭৫ বছরে সমস্ত আদর্শিক শক্তি সাময়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে নতিস্বীকার করেছে এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার প্রসারের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছে। মুসলিম রাজনীতিও সাময়িক প্রতিক্রিয়া এবং সাম্প্রদায়িক স্লোগানের মধ্যে নিজেকে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলেছে যে, কোনো গঠনমূলক আদর্শিক ভিত্তি তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে পারেনি।
তৃতীয় অংশ এদিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এখানে হিন্দুত্বকে আদর্শিক স্তরে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একটি বিস্তারিত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ের অধীনে এমন একটি তাৎপর্যপূর্ণ বয়ান (narrative) প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে হিন্দুত্বের ওপর যেমন গঠনমূলক সমালোচনা রয়েছে, তেমনি দেশ গঠন ও উন্নয়নের একটি বিকল্প রূপরেখাও রয়েছে। এ গঠনমূলক ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে কী কী সুযোগ রয়েছে এবং কোন পথে কাজ করা প্রয়োজন, তা চতুর্থ ও শেষ অংশে আলোচনা করা হয়েছে।
হিন্দুস্তানের ইতিহাসের অত্যন্ত কঠিন এক মোড়ে, যখন সামনের পথগুলো আপাতদৃষ্টিতে রুদ্ধ বলে মনে হচ্ছে, তখন এ বই ভবিষ্যতের একটি উজ্জ্বল কর্মপন্থা প্রস্তাব করে। বইটি ভারতের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও পুরো উপমহাদেশের বাসিন্দাদের জন্য এর পাঠ জরুরি। কেননা, হিন্দুত্ববাদের টার্গেট শুধু ভারত নামক রাষ্ট্রটিই নয়, গোটা উপমহাদেশই তাদের লক্ষ্য।
Title
হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং মুসলমান
একবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখর ধীসম্পন্ন চিন্তাবিদ, তাত্ত্বিক লেখক এবং সমাজসংস্কারক। আধুনিক বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জগুলোকে ইসলামের শাশ্বত দর্শনের আলোকে ব্যাখ্যা করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। বিশেষ করে উত্তর-আধুনিকতা, তথ্যপ্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার এবং নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব নিয়ে তার গবেষণা ও মৌলিক কাজগুলো বিশ্বজুড়ে বোদ্ধা মহলে সমাদৃত।
পেশাগত জীবনে প্রকৌশলী হয়েও তিনি তার প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে বর্তমানে ভারতের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন 'জামায়াতে ইসলামী হিন্দ'-এর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার লেখনিতে যুক্তিনির্ভরতা, প্রাঞ্জল ভাষা এবং সমকালীন সমস্যার কার্যকর সমাধান ফুটে ওঠে। 'হিন্দুত্ব ইন্তিহাপাসান্দি নজরিয়াতি কাশমাকাস আওর মুসলমান' ছাড়াও তার গুরুত্বপূর্ণ রচনার তালিকায় রয়েছে 'একবিংশ শতাব্দীতে ইসলাম', 'গ্লোবালাইজেশন এবং ইসলাম' ও 'নতুন প্রজন্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য'।