এই পুস্তিকাটি মূলত একটি অনুস্মারক। এ কোনো তাত্ত্বিক বা একাডেমিক গ্রন্থ নয়— বরং যারা "সত্যের পথ" বেছে নিয়েছেন, যারা ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়েছেন, তাদের জন্য এক বাস্তবমুখী সতর্কবার্তা। এখানে আমরা দেখতে পাই, ইসলামী আন্দোলনের ভেতর থেকেই কিছু ভয়ানক বিপদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে, যেগুলো আন্দোলনের ভিতকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খেতে থাকে। বাইরের শত্রু যতই প্রবল হোক না কেন, এগুলোর সামনে তা তেমন ভয়ের কিছু নয়। প্রকৃত বিপদ তখনই আসে যখন ভেতরের দুর্বলতা নিজেরাই একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে শুরু করে দেয়, নিজেদের অহংকার, আত্মসন্তুষ্টি ও সংকীর্ণ দলীয়তা নিয়ে নেমে পড়ে।
মাওলানা সাদরুদ্দীন ইসলাহী (রহ.) আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাসের প্রতিটি ধ্বংসের পেছনে এ ভেতরের ব্যাধিগুলোই ছিল মূল কারণ। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন:
১. আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতির অভাব ২. দ্বীনি জ্ঞান ও অর্ন্তদৃষ্টির অভাব ৩. ব্যক্তিপূজা ৪. দ্বীনের ব্যাপারে অসংযত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ধ্যানধারণা ৫. গ্রুপিং বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব ৬. মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার।
এ ছয়টি দুর্বলতা বা বিপদ—আন্দোলনের ভেতর ঢুকে গেলে, কোনো আন্দোলনেরই সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব নয়।
তাই প্রয়োজন আত্মসমালোচনা, আত্মবিশ্লেষণের, এবং তওবা করে ফিরে আসার। প্রয়োজন হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে একমাত্র উদ্দেশ্য বানিয়ে নেওয়ার। প্রয়োজন সত্যের অনুসন্ধান ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এমন আত্মনিবেদনের, যেখানে ব্যক্তিগত লাভ-লোকসান, দলীয় সুবিধা বা শ্রেণিস্বার্থ একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।
দাওয়াত ও আন্দোলনের ইতিহাস, কুরআনের শিক্ষা, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনের অভিজ্ঞতা, পূর্ববর্তী উম্মতদের ইতিহাস— সবকিছু এসে আমাদের সামনে যে শিক্ষা তুলে ধরে, তা একটাই— আল্লাহর জন্য খাঁটি হও, দল বা নিজের জন্য নয়।
এ পুস্তিকা পড়ে যেন আমরা নিজেরাই নিজেদের প্রশ্ন করি— আমরা কি সত্যের পথে চলার জন্য যথেষ্ট আন্তরিক? আমরা কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করছি? আমরা কি মেনে নিতে পারছি, হয়তো আমাদের মাঝেও অনেক ব্যাধি ঢুকে পড়েছে? এখনই সময়— নিজেদের সংশোধন করার, নিজেদের ভেতরের শত্রুদের চিহ্নিত করার এবং নিজের ঈমানকে বিশুদ্ধ করার। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সে তাওফিক দান করেন।
وَاٰخِرُ دَعْوٰنَا اَنِ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْن
অনুবাদক