টনি রবিন্স এবং ক্রিস্টোফার জুক-এর লেখা 'দ্য হোলি গ্রেইল অব ইনভেস্টিং' (The Holy Grail of Investing) বইটিতে দক্ষ বিনিয়োগকারীরা কীভাবে প্রচলিত বাজারের বাইরে গিয়ে সম্পদ বৃদ্ধি করেন, তার একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। রবিন্সের মতে, বিনিয়োগের "হোলি গ্রেইল" বা পরম লক্ষ্য হলো এমন একটি পোর্টফোলিও তৈরি করা, যেখানে ৮ থেকে ১২টি একে অপরের সাথে সম্পর্কহীন (uncorrelated) বিনিয়োগ থাকবে।
এই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু নিচে তুলে ধরা হলো:
## ১. বিকল্প বিনিয়োগের (Alternative Investments) শক্তি
প্রথাগত স্টক বা বন্ডের বাইরে গিয়ে সম্পদশালীরা নিচের খাতগুলোতে গুরুত্ব দেন:
* প্রাইভেট ইকুইটি (Private Equity): শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির মালিকানা গ্রহণ করা, যা পাবলিক মার্কেটের তুলনায় বেশি মুনাফা দিতে পারে।
* প্রাইভেট ক্রেডিট (Private Credit): বন্ডের বিকল্প হিসেবে কোম্পানিগুলোকে সরাসরি ঋণ দেওয়া, যা সাধারণ বন্ডের চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি রিটার্ন দিতে পারে।
* ভেঞ্চার ক্যাপিটাল (Venture Capital): নতুন এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা।
* পেশাদার স্পোর্টস টিম: এনবিএ (NBA) বা এমএলবি (MLB)-র মতো বড় স্পোর্টস টিমের মালিকানায় অংশ নেওয়া, যা গত দশকে এসএন্ডপি ৫০০ (S&P 500)-এর চেয়েও ভালো পারফর্ম করেছে।
## ২. ঝুকি কমানোর কৌশল (Uncorrelated Assets)
টনি রবিন্স এবং রে ডালিও মনে করেন, যদি এমন কিছু সম্পদে বিনিয়োগ করা যায় যা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত নয় (যেমন: স্টক পড়লে রিয়েল এস্টেট বা প্রাইভেট ক্রেডিট ঠিক থাকে), তবে মুনাফা না কমিয়েই ঝুঁকি প্রায় ৮০% কমানো সম্ভব।
## ৩. অ্যাসিমেট্রিক রিস্ক/রিওয়ার্ড (Asymmetric Risk/Reward)
দক্ষ বিনিয়োগকারীরা এমন ক্ষেত্র খোঁজেন যেখানে লোকসানের ভয় কম কিন্তু লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি। অর্থাৎ, অল্প ঝুঁকির বিনিময়ে বিশাল রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ।
## ৪. সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ
আগে এই ধরণের বিনিয়োগ কেবল অতি-ধনী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। রবিন্স তার বইয়ে দেখিয়েছেন যে এখন নতুন কিছু নিয়মের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এসব 'স্মার্ট মানি' কৌশলে অংশ নিতে পারছেন।
## ৫. বিখ্যাত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বইটিতে বিশ্বের সেরা ১৩ জন ফান্ড ম্যানেজার ও বিলিয়নিয়ারদের (যেমন: হাওয়ার্ড মার্কস, বিনোদ খোসলা, পিটার থিয়েল) সাক্ষাৎকার রয়েছে, যারা নিজেদের সফলতার গোপন কৌশলগুলো শেয়ার করেছেন।
সহজ কথায়, দক্ষ বিনিয়োগকারীরা কেবল শেয়ার বাজারে সীমাবদ্ধ না থেকে রিয়েল এস্টেট, এনার্জি এবং প্রাইভেট মার্কেটে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিয়ে যেকোনো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে (মন্দা বা সুসময়) নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখেন।