এই বইয়ের উদ্দেশ্য হলো পুরস্কার-ব্যবস্থার স্নায়ুবিজ্ঞানকে সহজ ও মানবিকভাবে বিশ্লেষণ করা, যাতে আমরা আনন্দ ও বেদনার মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু শুধু বিজ্ঞান জানলেই হয় না; মানুষের জীবন্ত অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। বাধ্যতামূলক অতিভোগ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, তা সবচেয়ে গভীরভাবে শেখাতে পারেন তারাই, যারা আসক্তির সবচেয়ে নির্মম রূপের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। তাই এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে আসক্তির ফাঁদে পড়ে আবার সেখান থেকে বেরিয়ে আসা মানুষদের সত্যিকারের জীবনকথা।
তাদের গল্প হয়তো আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলবে, কখনও বিস্মিত করবে, কখনও শিহরিতও করতে পারে। কিন্তু এগুলোকে কেবল ব্যতিক্রমী ঘটনা ভেবে দূরে সরিয়ে দিলে ভুল হবে। এগুলো আসলে আমাদের সবার মধ্যকার সম্ভাব্য দুর্বলতারই চূড়ান্ত সংস্করণ। গুরুতর আসক্ত মানুষদের আমরা যদি মনোযোগ দিয়ে দেখি, তবে তাদের ভেতর দিয়ে আমাদের নিজেদেরই এক বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।
চিনি, কেনাকাটা, গোপন voyeurism, ভেপিং, সামাজিক মাধ্যম, এমনকি তথাকথিত “ভালো” তথ্যভোগ—আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো আচরণে প্রয়োজনের বেশি জড়িয়ে পড়ি, পরে যার জন্য অনুশোচনা হয়। এই বই সেই আধুনিক সমস্যার মনস্তত্ত্ব বোঝাতে চায়: এমন এক পৃথিবীতে, যেখানে ভোগ শুধু একটি কাজ নয়, বরং জীবনচালনার কেন্দ্রীয় প্রেরণা হয়ে উঠেছে, সেখানে কীভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সংযম, এবং অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য পুনর্গঠন করা যায়।
এক কথায়, এই বইয়ের মূল কথাটি হলো: আকাঙ্ক্ষার বিজ্ঞানকে যদি পুনরুদ্ধারের প্রজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবেই ভারসাম্যের পথ তৈরি হয়।