শৈশব-কৈশোরের দোলায় দোলা করা স্মৃতিগুলো মাঝেমধ্যে আত্মাকে নরম করে দেয়—একপ্রকার মিষ্টি নস্টালজিয়া, যা ভাবতে বসলে আমি অনেক সময়ই হারিয়ে যাই অতীতের সেই সরল দিনগুলোর মাঝে। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের কথা স্মরণ করলেই মন ভরে যায় কৃতজ্ঞতায়। কুরআন শরীফে বলা হয়েছে— “আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নি‘য়ামাত) বৃদ্ধি করে দেব।” (সুরা ইবরাহিম: ৭)
"নীলিমায় ছোঁয়া দূরের আলো" বইটি ঠিক সেই হারানো মুহূর্তগুলো খোঁজার এক ছোট্ট অ্যালবাম—আমার নিজস্ব স্মৃতির এলোমেলো পাতাগুলো, যেগুলো বসে বসে কখনো ভাবনা, কখনো হাসি, কখনো অচেনা নীরবতার মধ্যে লুকিয়ে ছিল।
সময়ের সাথে সেসব লেখা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে গিয়েছিল; এবং একদিন আমার অত্যন্ত স্নেহের মানুষ—আমার শ্রদ্ধেয় শ,ম আব্দুল্লাহ স্যারের প্রিয় সন্তান আব্দুল্লাহ আল নোমান—আমার এই এলোমেলো লেখাগুলো মলাটে জড়িয়ে প্রকাশ করার সাহস দিলেন। নোমানের সেই মহব্বত ও প্রেরণা না পেলে হয়তো এই প্রকাশ ঘটতো না। আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন নোমানকে দ্বীনের খাদিম হিসেবে কবুল করেন, দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করেন এবং স্যারের নেক সন্তান হিসেবে কবুল করেন।
এই লেখাগুলো সম্পূর্ণ আমার নিজের, ব্যক্তিগত অনুভব—কখনো সরল আবেগ, কখনো লঘু উপহাস, আবার কখনো স্মৃতির নরম আভা। এগুলোকে সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ করতে অনেকে তথ্য, স্মৃতি এবং ভালোবাসা দিয়ে সহায়তা করেছেন; তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দোয়া করি—আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন যেন তাদের সব নেক আমল কবুল করেন এবং উত্তম প্রতিদান দান করেন।
আমার দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা ছিল—এই বইটির একটি অনুলিপি আমার প্রিয় মা জননীর হাতে তুলে দিয়ে তাঁর দোয়া নেওয়া। কিন্তু সে ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল। আমার মা, আমার প্রাণের মানুষ, বিগত ২৯ আগস্ট (শুক্রবার) ২০২৫, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরী আমাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জান্নাত তোমার মায়ের পদতলে।” (নাসাঈ, ইবন মাজাহ) — আমি সেই জান্নাতের আশা নিয়ে এই বইটি বিশেষভাবে আমার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় উৎসর্গ করছি।
পাঠকবন্ধুগণ, আশা করি এগুলো পড়লে আপনাদেরও কোনো এক মুহূর্তে নিজের শৈশব-দিনগুলোর কাঁচা অনুভূতি ফিরে আসবে—হয়তো হাসি, হয়তো নীরব ভাব, হয়তো ছটফট করে উঠা এক বিপুল কৃতজ্ঞতা। লেখাগুলো সংকলন করার সময় আমি চেয়েছি—অতীতকে শ্রদ্ধা করা, স্মৃতিগুলোকে খুঁটিয়ে রাখা এবং তাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর রহমতের নিদর্শনগুলো জাগিয়ে তোলা।
আপনাদের স্নেহ, দোয়া ও সমালোচনার জন্য সদা উন্মুক্ত; এই নানান স্মৃতি-খুচরিগুলো শুধুই আমার নয়—এগুলো আমাদের সকলেরই, যারা ছোটবেলার সরলতায় একবার হেঁটে গেছেন। পড়ে কথা বলুন, মনে রাখুন, কিংবা ভুলে যান—তবু যদি কোনো আলো, কোনো কৃতজ্ঞতা বা কোনো ঈমানি অনুভূতি আপনার হৃদয়ে জন্ম নেয়, আমি তাতেই সন্তুষ্ট থাকবো।
অতএব—এই ছোট্ট মিলনপত্রটি হাতে নিয়ে—আসুন অতীতকে স্মরণ করি, বর্তমানকে কৃতজ্ঞতায় গ্রহণ করি এবং আগামী দিনগুলোর জন্য আল্লাহর রহমতের আশায় ভর করে আন্তরিক দোয়া করি।