'নারীর ভাবনায় নারী'- গ্রন্থে নারীর অনুচ্চারিত কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়েছে। নারী-জীবনের পালা বদলকে তিনি প্রেক্ষাপট হিসেবে এনেছেন।
সুপ্রাচীনকাল থেকে যে অত্যাচার নারীর ওপর হয়েছে, তার সমাজ-অর্থনীতি-সংস্কৃতিগত রূপটির পরিচয় প্রদানের পাশাপাশি নারীবাদী দর্শনের তাত্ত্বিক দিকটি তুলে ধরার প্রয়াস গ্রন্থটি। একবিংশ শতাব্দীর বাংলা শারদীয়া সাহিত্যে প্রকাশিত নারীকেন্দ্রিক উপন্যাসের তালিকা নির্মাণ করে, নারী চরিত্র ও উদ্ধৃতি বিষয়ক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে নারীর সামাজিক অবস্থানের স্বরূপ সন্ধানের পাশাপাশি, কাল থেকে কালান্তরে পর্ব থেকে পর্বে কিভাবে নারী-প্রতিমা নির্মাণের প্রবণতা বাংলাসাহিত্যের দর্পণে বদলাতে থেকেছে, সেই ধারাবাহিকতার প্রতিও গ্রন্থে পূর্ণ মর্যাদা সহকারে দৃষ্টি দিয়েছে।
'নারীর ক্ষমতায়ন' কোনো মিথ, তা সোনার পাথর
বাটি, নাকি পরিবর্তমান সমাজ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অধরা সেই সত্য আজ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়েছে, সেই সত্য আবিষ্কারই তাঁর মূলগত অভীপ্সা।
নারী-জীবনের সামাজিক অভিজ্ঞানকে সুতচুর লেখনী কৌশল প্রদানে এমনভাবে গ্রন্থে উঠে এসেছে যেন সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, তথা নৃতত্ত্বের এক নবতম সংমিশ্রণ। সাহিত্য আলোচনার এই ইন্টারডিসিপিনারি অ্যাপ্রোচ অবশ্যই গ্রন্থটিকে এক বিশেষ মর্যাদা দান করবে।
'নারীবাদ'-এর বহু প্রচলিত ধারণাকে প্রতিষ্ঠা
প্রদানের লক্ষ্যে তাকে তথ্যভারে ভারাক্রান্ত করার পরিবর্তে সামাজিক মানদণ্ডে বিচার করে সামাজিক সমীক্ষার অঙ্গ করে তোলা এই গ্রন্থের বিশেষ দিক। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কালের দর্পণে বদলাতে থাকা নির্যাতনের চেহারাটার স্বরূপ সন্ধানের পাশাপাশি নারীর আত্মপরিচয় লাভের সংগ্রামের যে সুদীর্ঘ ইতিহাসের সন্ধান এই গ্রন্থ দিয়েছে তার জন্য গ্রন্থটি সাহিত্যের ধারায় হয়ে উঠেছে এক অনন্য সংযোজন এবং তাঁকে এর জন্য জানানো যেতে পারে অজস্র অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা।