“আল আসমাউল হুসনা (খণ্ড ১): দয়াময় আল্লাহ جل جلاله-এর সুন্দরতম নামসমূহ দিয়ে সাজানো জুমু‘আর খুতবা”—এ গ্রন্থটি মূলত এমন একটি খুতবা-সহায়ক ও আত্মগঠনের পাঠ্য যেখানে আল্লাহ তায়ালার সুন্দর নামসমূহকে কেন্দ্র করে জুম‘আর জন্য ধারাবাহিক, দলিলভিত্তিক ও হৃদয়স্পর্শী আলোচনা সাজানো হয়েছে। বইটি পাঠক, খতিব ও সাধারণ মুসল্লি—সবার জন্যই আল্লাহকে চেনা, তাঁর গুণাবলি উপলব্ধি করা এবং ঈমানকে গভীর করার একটি সহজ ও সুসংগঠিত মাধ্যম।
গ্রন্থের শুরুতে রয়েছে ভূমিকা, যেখানে আসমাউল হুসনার মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে—বিশেষ করে আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম সংরক্ষণ/অর্থ বোঝা/অন্তরে ধারণ করা এবং সেগুলোকে ইবাদত ও দো‘আয় প্রয়োগ করার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর “আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার পরিচয়” শিরোনামে পাঠককে আল্লাহর পরিচিতি ও তাঁর প্রতি বান্দার ঈমানি সম্পর্কের ভিত্তি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা পরবর্তী খুতবা-আলোচনাগুলোর জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।
খণ্ড–১-এ ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি মহান নামকে কেন্দ্র করে জুম‘আর খুতবা সাজানো হয়েছে—যেমন: আর-রহমান, আর-রহীম, আল-মালিক, আল-কুদ্দূস, আস-সালাম, আল-মু’মিন, আল-মুহাইমিন, আল-আজীয, আল-জাব্বার, আল-মুতাকাব্বির, আল-খালিক, আল-বারী, আল-মুসাওউইর, আল-গাফফার, আল-কাহহার, আল-ওহহাব ইত্যাদি। প্রতিটি নামের আলোচনায় সাধারণভাবে থাকে—নামের অর্থ ও মর্ম, কুরআনের আয়াত/সহীহ হাদিসের দলিল, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, এবং বাস্তব জীবনে এর প্রতিফলন—যাতে খুতবা শুধু তথ্যভিত্তিক না হয়ে অন্তর জাগানোর আহ্বান হয়ে ওঠে।
সার্বিকভাবে, এই বইটি তাওহীদকে মজবুত করা, তাকওয়া বৃদ্ধি, দো‘আ ও ইবাদতে গভীরতা আনা, চরিত্র গঠন ও সমাজজীবনে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা—এসব উদ্দেশ্যে জুম‘আর খুতবাকে একটি কার্যকর শিক্ষামাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করেছে। খণ্ড–১ পাঠকের মনে আল্লাহর নামসমূহের প্রতি ভালোবাসা ও ভয়-ভরসার ভারসাম্য তৈরি করে, এবং পরবর্তী খণ্ডগুলোর জন্য আগ্রহ ও প্রস্তুতি গড়ে তোলে—ইনশাআল্লাহ।