আয়েশার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। তিনি শত শত ভাষা অধ্যয়ন করেছেন—জীবিত ও মৃত। কিন্তু এর মত কখনো কিছু শুনেননি। এই ভাষাটি এলোমেলো নয় বরং সুগঠিত কিন্তু তার কাছে একেবারেই অপরিচিত।
তিনি তৎক্ষণাৎ ল্যাবে ফিরে এলেন এবং বিশ্লেষণ শুরু করলেন। সংকেতটি প্রতি ৪২ সেকেন্ডে পুনরাবৃত্ত হচ্ছে। প্রতিটি বার্স্টে ১৭টি স্পন্দন, চারটি করে গুচ্ছে বিভক্ত, তারপর একটি। তিনি শিউর যে এটি প্রাকৃতিক নয়।
নুরু যখন দোতলায় পা রাখলো ঠিক তখনই লঞ্চ ছেড়ে দিলো। চাতক পাখির মতো নুরুর চোখ আফজালদের খুজতে লাগলো। নিচ তলার মত দোতলায়ও অনেক মানুষ। কিন্তু সুবিধা একটাই, জায়গা কম। এতে সহজেই খুজে পাওয়া যাবে।
বেশিক্ষণ খুজতে হলোনা। নুরু দেখলো ওরা লঞ্চের ডান পাশের কোনায় দেয়াল ঘেষা জায়গা পেয়েছে। শেষ সময়ে লঞ্চে উইঠা ওখানে তো জায়গা পাওয়ার কথা না। ওইখানে থাকলে তো যেই আশায় আসছে তা পুরন হবেনা। একটু চিন্তুায় পড়ে গেলো নুরু। তবে হাল ছাড়লো না। কি করা যায় ভাবতে ভাবতে তিন তলায় উঠার সিড়ির পাশে বসে পড়লো।
রাতে জামান যখন আবার ফ্ল্যাটে ফিরে আসে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তার মনে হয়, কেউ ভেতর থেকে তাকিয়ে আছে। ভয় লাগলেও সে দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে। ঘরটা আগের চেয়ে ঠান্ডা। সে লাইট জ্বালায়, কিন্তু বাল্বটা বারবার জ্বলে নিভে। এভাবে কিছুক্ষন হয়ে ঠিক মত জ্বলতে থাকে।
ফ্রেশ হয়ে পানি আনার জন্য জামান যখন রান্নাঘরে গেলো দেখলো ক্যালেন্ডারটা নেই। তার জায়গায় একটা ছবি—একজন নারী, চোখে গভীর দৃষ্টি। ছবির নিচে লেখা: “আমি এখনও এখানে আছি। ” জামান প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। একবার মনে হলো এখান থেকে ছুটে পালায় কিন্তু কিছুটা সাহস সঞ্চার করে এগিয়ে গিয়ে ছবিটার সামনে দাঁড়ায়।