লেখককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায় সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে যখন তিনি কেবল একজন কবি নন—একটি সময়ের বিবেক, একটি নারীকণ্ঠের অন্তর্লীন প্রতিবাদ, এবং ভাষার গভীর আত্মদর্শনের অধিকারী হন। শিরীনা ইয়াসমিন সেই বিরল স্বরগুলোর একটি, যিনি শব্দকে কেবল সাজান না—শব্দের ভেতর বাস করেন।
“হতীনের খ্যাতা” গ্রন্থে তিনি গ্রামবাংলার কাঁচা মাটি, নারীর অন্তর্গত ক্ষত, সামাজিক বৈপরীত্য এবং মানবিক টানাপোড়েনকে এমনভাবে ধরেছেন, যা একদিকে আদি, অন্যদিকে সমকালীন। তাঁর লেখায় লোকজ গন্ধ আছে, আছে দার্শনিক বোধ, আছে অন্তর্জাগতিক প্রশ্ন। তিনি নিছক গল্প বলেন না—একটি সামাজিক নকশা উন্মোচন করেন।
এর আগে তিনি পাঠকসমাজকে উপহার দিয়েছেন—
“সূক্ষ্ম-প্রতীক কথকতা” — কাব্যগ্রন্থ
“আরাধ্য প্রণয়” — উপন্যাস
“প্রিয় হিমাদ্রি” — পত্রকাব্য
“শূন্যতা নিয়ে ঘুমোতে আসপ যে শালিক” —কাব্যগ্রন্থ
“জুলাইয়ের রক্তাক্ত দলিল” — কাব্যগ্রন্থ
“একগুচ্ছ চিঠি” — পত্রকাব্য
প্রতিটি গ্রন্থেই তিনি আলাদা স্বর নির্মাণ করেছেন। কখনও প্রেম দার্শনিক হয়েছে, কখনও প্রতিবাদ ব্যক্তিগত, কখনও স্মৃতি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলিল।
“হতীনের খ্যাতা” সেই ধারাবাহিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখানে লেখক নির্মম সত্য বলার সাহস দেখিয়েছেন। ভাষা কখনও কাঁটাযুক্ত, কখনও শিউলি-ফোটা ভোরের মতো কোমল। কিন্তু সর্বত্রই তিনি সততা বজায় রেখেছেন।
এখানেই থেমে থাকছেন না শিরীনা ইয়াসমিন। খুব শিগগিরই পাঠকের হাতে আসছে—
“বাতাসে আগুনের ঘ্রাণ” — কাব্যগ্রন্থ
“সহজ শব্দের গহীন ব্যথা” — কাব্যগ্রন্থ
আমি বিশ্বাস করি, এই লেখক সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবেন—কারণ তিনি জনপ্রিয় হওয়ার জন্য লেখেন না, সত্য বলার জন্য লেখেন। আর যে কলম সত্যের দায় নেয়, তাকে ইতিহাস অস্বীকার করতে পারে না। কবির জন্য শুভকামনা। কবি আবুল খায়ের।