“বাটাজোড়া সন্দ্বীপ, নির্বাসিত আত্মার স্বজন”— শিরোনামটিই যেন এক গভীর আত্মিক টান, স্মৃতি ও স্বদেশচেতনার অনুরণন বহন করে। দ্বীপকন্যা সন্দ্বীপের তরুণ লেখক এস. এম. জাকিরুল আলম মেহেদীর এই গ্রন্থে ইতিহাস, স্মৃতিচারণ, লোকজ ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক ভাষার আবেগময় রূপ এক অনন্য শিল্পভঙ্গিতে ধরা পড়েছে।
লেখক তাঁর জন্মস্থান অধুনালুপ্ত বাটাজোড়া গ্রামকে শুধু স্মরণই করেননি, বরং তাকে জীবন্ত করে তুলেছেন শব্দের রঙে ও অনুভূতির স্পর্শে। সন্দ্বীপের প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বইটির প্রতিটি রচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোথাও ইতিহাসের নীরব পদচারণা, কোথাও হারানো সময়ের বেদনাময় স্মৃতি, আবার কোথাও স্বজনহারা জোয়ারে ভেজা সবুজ ভূমির প্রতি এক গভীর মমত্ববোধ—সব মিলিয়ে বইটি হয়ে উঠেছে আত্মপরিচয়ের এক আবেগঘন দলিল।
গ্রন্থের কবিতা ও গদ্যে সন্দ্বীপের আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এতে শুধু ভাষার সৌন্দর্যই নয়, একটি অঞ্চলের প্রাণস্পন্দন ও সংস্কৃতির স্বতন্ত্র পরিচয় ফুটে উঠেছে। লেখাগুলো পড়তে পড়তে পাঠক যেন দ্বীপের মাটির ঘ্রান মাখা মহুয়া সুবাস অনুভব করেন, শুনতে পান সাগর জলের উত্তাল ঢেউয়ের সিম্ফনি, আর উপলব্ধি করেন দ্বীপজীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা ও সংগ্রামের গল্প।
লেখকের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এই বইয়ের আরেকটি শক্তি। সমাজের নানা সমস্যা, মানুষের বেদনা ও স্বজনের প্রতি সহমর্মিতার প্রকাশ তাঁর লেখাকে দিয়েছে গভীরতা ও আন্তরিকতা। ফলে গ্রন্থটি কেবল সাহিত্যিক রচনা নয়; এটি স্মৃতি, ইতিহাস ও মানবিক দায়বোধের এক সংবেদনশীল সংকলন।
আমি বিশ্বাস করি, পাঠক এই বই পাঠের মাধ্যমে এক অনন্য আনন্দযাত্রায় অংশ নেবেন এবং সন্দ্বীপকে নতুন করে আবিষ্কার করবেন। বইটি বহুলপঠিত ও সমাদৃত হোক—এই প্রত্যাশা রইল।
স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সকল সন্দ্বীপবাসী এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী পাঠকের হৃদয়ে এই গ্রন্থ বিশেষ স্থান করে নেবে—এটাই আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।