জাতীয় দিবসগুলো এলেই অন্যান্য দিনগুলো থেকে অনেক বেশি প্রিথার অনুভূতিগুলো আবেগী হয়ে ওঠে যেমন, ২১শে ফেব্রুয়ারি (আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস), ২৫শে মার্চ (কালো রাত), ২৬শে মার্চ (স্বাধীনতা দিবস), ১৪ই ডিসেম্বর (বুদ্ধিজীবী দিবস), ১৬ই ডিসেম্বর (বিজয় দিবস)। এই দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্ত কেমন যেন একটা ফুরফুরে শান্তির মতো তাকে জড়িয়ে থাকে চাদর হয়ে। সম্মান, ভক্তি, শ্রদ্ধায় সারাক্ষণ মনের অজান্তেই তার মাথা নত হয়ে যায় তাঁদের প্রতি, যাঁরা এদেশের জন্য লড়াই করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন, অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যাঁদের জন্য আজ তিনি জাতি হিসেবে একটা নিজেস্ব পরিচয় পেয়েছেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে স্বাধীন বাংলা পেয়েছেন। আবার কখনও কখনও অস্বস্তি বোধও করেন একটি বিশেষ মহলের প্রতি তীব্র ঘৃণায়। ৭১ এর ২৫ শে মার্চের সেই ভয়ংকর কালো রাতের ঘটনা প্রিথা বড়োদের কাছ থেকে শুনেছেন অনেক। এই দিন থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত গণহত্যা, যার মাধ্যমে তারা ১৯৭১ এর মার্চ ও এর পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী অন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বইগুলোতেও এ বিষয়ে পড়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে সংরক্ষিত ছবি দেখেছেন। ছোটো ছোটো শিশুদেরকে ও তারা মেরেছে নির্বিচারে। তাদেরকে মায়ের কোল থেকে টেনে নিয়ে আছড়ে মেরে ফেলতেও সেদিন এতটুকু বাধেনি ঐ নরপশুদের। সেদিন নিহত হওয়া কোনো একজন শিশুর একটা ছোট্ট জামা সংরক্ষিত ছিল জাদুঘরে। এই জামাটি প্রিথা ভুলতে-ই পারেন না। তার শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। একদিকে যেমন প্রচণ্ড মায়াবোধ হয় শিশুটির জন্য অপর দিকে রাগ ও ঘৃণায় ভরে যায় অন্তর ঐ হানাদার এবং ওদের দোসর রাজাকার বাহিনীর প্রতি।