হাতের লেখা বিশ্লেষণ করব কেন? গ্রাফোলজির মূলনীতিই-বা কী? অনেকে তো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম সই করেন, ধরা যাবে কীভাবে? অনেকের লেখার সময় হাত কাঁপে বা অনেকে বিভিন্ন পাতায় বিভিন্ন রকম লেখেন। তাদের কী হবে? গ্রাফোলজিস্টদের মতে, বিষয়টি অনেকটা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ মেশিনের মতো। এই যন্ত্র যেমন মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রকৃত অবস্থা ধরে ফেলে, তেমনই হাতের লেখাতেও মনের ছাপ পড়তে বাধ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে এর প্রমাণ মিলেছে। সেখানে দুই হাত খোয়ানো ১০ হাজার জার্মান সৈনিককে পা দিয়ে লিখতে শেখানো হয়। দেখা যায়, তাদের হাত ও পায়ের লেখার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অভিন্ন। অর্থাৎ লেখার মধ্যে মনের ছাপ লুকোনোর কোনোও উপায় নেই। বাইরে থেকে কাউকে দেখে যা মনে হয়, সাধারণত তিনি তা হন না। এটাই বাস্তব, এখানেই প্রয়োজন হাতের লেখায় কোনো মানুষকে চিনে নেওয়া।
গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন— 'মন হলো মস্তিষ্কের কুলিংটাওয়ার। কারণ আমরা হাত দিয়ে লিখলেও তা কিন্তু চালিত হয় মস্তিষ্ক দিয়েই।' পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সঞ্চিত প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতার সবটুকুই এসে জমা হয় মস্তিষ্কে। মস্তিষ্কের সঞ্চালনেই মুখে কথা জোগায়, স্নায়ু এবং পেশিতে বল আসে, হাত দিয়ে লেখা বের হয়। তাই লেখার ওপর মন বা মস্তিষ্কের ছাপ যে পড়বেই তাতে আর সন্দেহ কী? গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলও মন্তব্য করেছিলেন— একই শব্দ উচ্চারণে পৃথিবীর দুজন মানুষের গলার স্বর যেমন এক হতে পারে না, তেমনই পৃথিবীর যে-কোনোও দুজনের হাতের লেখাও কখনো এক নয়। আসলে আমরা মনে যেটা ভাবি, সঙ্গে সঙ্গে পেনসিল, পেন দিয়ে যেকোনোও ভাষায় লেখার সঙ্গে সঙ্গে ফুটিয়ে তুলি মনের ভাষাও, যা এড়ানো প্রায় অসম্ভব।