রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালের ১৩ নভেম্বর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯১২ সালের ১ নভেম্বর লন্ডনে ইংরেজি গীতাঞ্জলি (ঝড়হম ঙভভবৎরহমং) প্রথম প্রকাশিত হয় ইন্ডিয়া সোসাইটির উদ্যোগে-আনুকুল্যে। সুইডেন থেকে প্রদত্ত বিশ্বসেরা এই পুরস্কার সাহিত্যের জন্য এই প্রথম ইউরোপের বাইরে কাউকে দেওয়া হয়। এমনকি কোনো আমেরিকান সাহিত্যিক তখন অবধি সাহিত্যের এই পুরস্কার পাননি। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আছে। সাহিত্যিক নিত্যপ্রিয় ঘোষ (রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ কবি শঙ্খ ঘোষের অনুজ) এ নিয়ে একসময় অনেক কথা বলেছেন। তাঁর মতে, যে-সব নিয়ম মেনে সাধারণত এই পুরস্কার প্রাপকদের নির্ধারণ করা হয় সেগুলি ঠিক মানা হয়নি এবং এই নির্বাচনের মধ্যে একটা তাড়াহুড়ো, বাইরের চাপ অনুভব করেছে। নাম পেশ করার শেষ তারিখ, মূল ভাষায় লেখা সাহিত্য (অনুবাদ নয়) ইত্যাদি নিয়ম মানা হয়নি। নোবেল কমিটি ফরাসি খরঃবৎধৎু যরংঃড়ৎরধহ সড়ৎধষরংঃ ঊসরষব ঋধমঁবঃ-এর নাম মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেটা হঠাৎ পরিবর্তিত হলো কী করে? ঊংধরং ঞবমহবৎ ছিলেন একমাত্র সদস্য যিনি বাংলা জানতেন। তাঁকে গুরুত্ব না দিয়ে ঐধষষংঃৎড়স-কে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কেন বাছা হলো? সুইডেনের নোবেল কমিটি ইংল্যান্ডের রয়্যাল সোসাইটির সদস্য স্টার্জ মুরের এক লাইনের সুপারিশপত্রের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত আগের একটি প্রস্তাব কেন নাকচ করে দিলো? সুইডেনের যুবরাজের কী ভূমিকা ছিল? এসব নানা প্রশ্ন নিত্যপ্রিয় তুলেছিলেন। এরপর আরও অনেকেই এ ধরনের প্রশ্নের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু বিষয় সামনে এনেছেন। এখনও এ ধরনের আলোচনা থেমে যায়নি; পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য উঠে আসে। এসবের আলোকে নতুন একটা প্রজন্মের পাশাপাশি কৌতূহলী যে কোনো পাঠকের আগ্রহকে বিবেচনায় নিয়ে এই গ্রন্থে একটু গভীরে গিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।