নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা হোক জেলাশহর ফেনীতে, পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আরিফুল আমীন রিজভী এটা মনেপ্রাণে চান এবং তিনি বলেছিলেন, ‘দৈনিক ফেনী পরিকল্পনার সময় সাময়িকী নন্দকানন, ফিচার, ক্রোড়পত্র, বিশেষ সংখ্যা ও প্রতি বছর ঈদসংখ্যার রূপরেখা তৈরি হয়েছে।’ সৃজনশীল কাজের জন্য মেধাবী ও যোগ্য সম্পাদক বলে, তাঁর সঙ্গে অন্য অনেকের মিল হয় না। শহীদুল্লা কায়সার, জহির রায়হান, সেলিম আল দীনের জন্মজেলা ফেনী থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক ফেনী’ জেলাসহ দেশের লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষক এবং পাঠকের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্ব ও একটি সৃজনশীল পত্রিকা হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। এ সংবাদ আমাদের জন্য আনন্দের। বিশেষ করে দৈনিক ফেনী’র সাহিত্য সাময়িকী ‘নন্দকানন’ শুরু থেকেই অঙ্গসজ্জা, পৃষ্ঠাসজ্জা, লেখা ও লেখক নির্বাচন সুপরিকল্পিত হওয়ার কারণে ঈদসংখ্যার প্রতি লেখক ও পাঠকদের বাড়তি আগ্রহ জমেছে। ফলে রাজধানী-মফস্বল এই জাতীয় কোনো বিভাজনের দৃশ্য আমাদের কাজের মধ্যে পড়ে না।
বিষয়ভিত্তিক কাজ আর প্রতি বছর ঈদসংখ্যাগুলোতে সব লেখকদের লেখার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের জেলাশহর থেকে প্রকাশ হওয়া সুসম্পাদনার গুণে ঈদসংখ্যা দেশজুড়ে শিল্পানুরাগী পাঠকের কাছে সমানভাবে আদৃত। যেখানে জাতীয় দৈনিকগুলো সুনির্দিষ্ট কিছু লেখক নিয়ে একধরনের গোষ্ঠিবদ্ধতার বৃত্তে আটকা পড়ে, সেখানে ‘দৈনিক ফেনী ঈদসংখ্যা’ একেবারেই ব্যতিক্রম ও স্বতন্ত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে প্রতিষ্ঠিত লেখকের পাশাপাশি নতুনদের লেখা ছাপা হয়। ফলে নতুন লেখক তৈরির ক্ষেত্রে দৈনিক ফেনী’র সকল বিভাগের ভূমিকা প্রশংসনীয়। যা এযাবৎ প্রকাশিত সংখ্যাগুলো সাহিত্যের বিভিন্নদিক বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, গদ্য, নিবন্ধ, শিল্পকথা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, নাটক, পাঠাগার, মুক্তকথা, সাক্ষাৎকার, সংস্কৃতি, ভ্রমণবিষয়ক এবং বইয়ের আলোচনায় বরাবরই সমৃদ্ধ হয়ে আসছে। মফস্বল ও রাজধানীকেন্দ্রিক শিল্পচর্চায় যে দূরত্ব বিরাজমান, দৈনিক ফেনী সেই দূরত্বের দেয়াল অনেকটা ভেঙেছে। ফলে কেন্দ্র ও প্রান্তের বিদ্যমান সংকট বোধকরি কিছুটা হলেও কমেছে। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর লেখার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনানির্ভর লেখা সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয় দৈনিক ফেনী’তে
যেমন দৈনিক ফেনী আয়োজিত নন্দকানন পাঠচক্রে আগত অতিথিরা বলেন, ‘দৈনিক ফেনী সম্পাদক আরিফ রিজভী এবং পত্রিকার বিভাগীয় সম্পাদক আলমগীর মাসুদের সুচিন্তিত পরিকল্পনার ফলেই একটি দৈনিকের সাহিত্য সাময়িকীসহ বিশেষ বিশেষ সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়।’ হ্যাঁ পাঠচক্রে আসা অতিথিদের সঙ্গে যদি বলি, বাংলাদেশের রাজধানীসহ দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রকাশ হওয়া ‘ঈদসংখ্যা’র প্রতি আমাদের সুনাম ও ভালোবাসা যুক্ত থাকে। একইসঙ্গে ‘দৈনিক ফেনী ঈদসংখ্যা’ প্রতি বছর রমজান মাসে—রুচি ও সৃজনশীলতার সাথে প্রকাশিত হয়, যা বিষয়ভিত্তিক লেখা, মুদ্রণ এবং বিষয় বিন্যাসে একটি মানসম্মত সংখ্যা হয়ে পাঠক মহলে পৌঁছায়।
সমাজ রাষ্ট্র থেকে সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সুন্দরের চর্চা হোক। লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক