থেমে গেছে কলমটি যেখানে
ভাবনাটা ২০১৯ একুশে বইমেলা চলাকালীন। লিটলম্যাগ চত্বরের ভাটিয়াল স্টল বন্ধ করে বাইরে বের হই। টিএসসি চত্বর থেকে বাসে করে ধানমন্ডি যাওয়ার পথে ভাবনাটা বাড়তে থাকে। ‘সমকালীন কথাসাহিত্যিকদের ওপর একটি কাজ করলে কেমন হয়?’ প্রশ্নটি মাথায় আসার পর একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল। যেন আমাকে আমি বলছি, ‘এত চিন্তা কিসের, এসব কাজে বেশি চিন্তা করতে নেই। একদম ভালো কাজ হবে। দ্রুত করে ফেল। এটি একটি দারুণ আইডিয়া।’ হ্যাঁ, নিজের সাথে নিজে যখন কথপোকথনে গেলাম—দেখি বিষয়টি নিয়ে ভাবতে আরো ভালো লাগছে। বইমেলা শেষ হলে ছোট্ট একটা ভ্রমণে বের হই ভারতের ত্রিপুরায়। ঠিক ভ্রমণ নয়, ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় ভাটিয়ালের পাঁচ বছরপূর্তি উপলক্ষে একটি উৎসবের আয়োজন করি। আয়োজন শেষ হলে দেশে এসে মনোযোগ দিই কাজে। শুরু করি ভাবনার কাজটি করার বাস্তব রূপায়ণের জোর প্রস্তুতি।
কিন্তু কীভাবে শুরু করব, ঠিক বুঝে উঠছিলাম না। আমার জানা থাকলেও বাংলা কথাসাহিত্যের মঞ্চটা যে এত বড় তা এর আগে এতটা বড় করে ভাবিনি! বাংলা ভাষাভাষী, যেমন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন বাঙালি লেখক ও কবি-সাহিত্যিক। অন্য দেশগুলো বাদই দিলাম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাকে বাদ দিই কীভাবে। না, এখানেও প্রশ্নটাকে বেশি বড় হতে দিলাম না। মুহূর্তেই গুরুত্ব দিলাম বাংলাদেশকে। হ্যাঁ, ‘বাংলাদেশ’ অর্থাৎ বাংলাদেশে জন্ম, বাংলাদেশে বসে সাহিত্যচর্চা করেন— এমন কথাসাহিত্যিকরাই এই সংখ্যায় উঠে আসবেন বলে স্থির করলাম।
বাংলাদেশ হলেই কি কাজটি সহজ হয়ে যাবে? না, সহজ মোটেও নয়। খাতায় লিখলাম বেশ ক’জন সাহিত্যিকের নাম। এ তালিকায় অনেক নাম লেখা হলো। কিন্তু একসঙ্গে এতজনকে নিয়ে কাজ করা অসম্ভব। তাই প্রথম ধাপের জন্য নির্বাচন করতে গিয়ে তালিকা ছোট করতে শুরু করলাম। অবশেষে সাতজনকে চূড়ান্ত করলাম। তাঁরা হলেন— আকিমুন রহমান, শাহীন আখতার, পাপড়ি রহমান, জাকির তালুকদার, আহমাদ মোস্তফা কামাল, প্রশান্ত মৃধা ও স্বকৃত নোমান। এবার দেখি হাতের কলমটি দারুণভাবে থেমে গেছে। ব্যস, শুরু হলো এই সাত কথাসাহিত্যিকের ওপর লেখা সংগ্রহ করা।
এরপর এই সাতজনের ওপর লিখবেন এমন ১৪ জনকে খুঁজে বের করলাম। তারপর নাম দিলাম ‘সমকালীন সাত কথাসাহিত্যিক’ এবং নির্বাচন করলাম প্রতিজনের ওপর থাকবে তিনটি লেখা। যেমন— ১. সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের ওপর একটি মূল্যায়নধর্মী প্রবন্ধ, ২. ব্যক্তিমূল্যায়ন একটি গদ্য, ৩. একটি সাক্ষাৎকার।
২০১৫ থেকে ভাটিয়াল আট পৃষ্ঠার কাগজ হিসেবে নিয়মিত বের হয়। ভাটিয়াল গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশসহ ত্রিপুরা ও কলকাতার লেখক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক ও পাঠকদের কাছে দারুণ পরিচিতি লাভ করেছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় আমাদের প্রকাশনার কার্যক্রম। অর্থাৎ এই সাহিত্য কাগজটি থেকেই ভাটিয়াল প্রকাশনের সংযোজন। ভাটিয়াল চলমান একটি সংস্কৃতির নাম বলা যায়। আর এ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতেই মূলত ভাটিয়াল নিয়মিত কাজ করছে এবং থাকতে চায় লেখক ও পাঠকদের মধ্যে। ভাটিয়াল বিশেষ এ সংখ্যাটির ওপর কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এই সংখ্যাটির প্রত্যেক লেখককে আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এই সংখ্যায় সাত কথাসাহিত্যিকের ওপর লিখতে গিয়ে আপনাদের অনেক পরিশ্রম হয়েছে। সবার সহযোগিতায় এই ব্যতিক্রম সমৃদ্ধ কাজটি শেষ করতে পেরেছি। শিল্পের সত্যঘরে আপনারা সুস্থ ও সুন্দর থাকুন সব সময়।
লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা রেখে বলছি, এ সংখ্যাটি কতটুকু হয়ে উঠল আপনারা বলবেন। আপনারা মতামত জানাবেন। আগামী সংখ্যা হবে অন্য কোনো বিষয়ে।
আলমগীর মাসুদ
১ ফেব্রুয়ারি ২০২১