নব্বই দশকের গল্পকার অদিতি ফাল্গুনী জাতীয় দৈনিকগুলোর সাহিত্য পাতায় গল্প লেখা শুরু করেছেন সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ বয়স থেকেই। আজ অনেকগুলো বছর পার হয়ে তাঁর শেষতম এই গল্পগ্রন্থেও তিনি প্রথম তারুণ্যের দিনগুলোর মতই মৃত্তিকা ও শেকড়সন্ধানী। অবিচল সংকল্পে তিনি আজো পায়ে হাঁটছেন সুন্দরবনের নিকটবর্তী কোন মুণ্ডা গ্রামে, পলাশীর কাঁচাবাজারে অথবা পুরনো ঢাকায় পরী বিবির মাজারে। ভারতীয় উপনিষদের নারী দার্শনিক গার্গী, ঢাকার একমাত্র শিখ গুরুদুয়ারার নকশাকার তথা স্থপতি মোগল কন্যা পরী বিবি অথবা সুন্দরবনের মুণ্ডা গ্রামে বাড়ির পাশের খালের মত ছোট্ট নদী সাঁতরে বাঘ উঠোনে চলে এলে যে শিশু কন্যা ‘ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র’ অভিমুখে দৌড়াতে দৌড়াতে একদিন সাফ গেমসের ফাইনালে গোল দিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়ে দেয়─পুরাণ, ইতিহাস ও সমকালের বিচিত্র নানা অলিন্দ পথ পার হয়ে তারা প্রত্যেকেই অদিতির কলমে এসে ধরা দেন। ‘মহাভারতে’র গঙ্গা কী আজকের গবেষণা পাগল তরুণী নওশীন আখতার চম্পা? পুরাণের ভীষ্ম আখ্যান নতুন করে বিনির্মাণ করেছেন অদিতি। বলেছেন ময়মনসিংহের যে সংখ্যালঘু, সেতারবাদক ভূ-স্বামীকে সেতার বাজানোর নির্দেশ দিয়ে পরে যাঁকে পাকবাহিনী হত্যা করেছে, তাঁর কথাও। আসেন ওপার বাংলার কোন নামী সঙ্গীতশিল্পী অরিন্দম রায়─এই গল্পগ্রন্থের একটি চরিত্র হয়ে─ভারতীয় সমাজের নানা জটিলতার চাপে পিষ্ট এক সেলিব্রিটির বয়ান জানতে পারি আমরা। শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানক যে আমাদের আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছুদিন বাস করেছিলেন─এটা জানেন ও জানান এই লেখক। পলাশী কাঁচাবাজারে সব্জি-বিক্রেতা বাবার ছেলে সিফাত অষ্টমীর সন্ধ্যায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আরতি প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। রাখোমণি বা সিফাতদের বাংলাদেশ তার সহস্রাব্দের পথ চলা তাই কখনো থামায় না।