এই বইয়ে আলোচনা করা হয়েছে, আমাদের দেশে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্করা জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, কিংবা কোন ভিত্তিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তা-ও বুঝতে পারেন না। একই ঘটনা আমার সাথেও ঘটেছিল। এছাড়া, বাজার বা অনলাইনে পাওয়া ক্যারিয়ারভিত্তিক বই কিংবা মোটিভেশনাল লেখা একজন মানুষের জীবনের জন্য যথেষ্ট বা পরিপূর্ণ নয় বলে আমি মনে করি। কারণ, সেসব বই বা লেখায় নির্দিষ্ট বা সাম্প্রতিক সমস্যা কিংবা শুধু ক্যারিয়ার-সম্পর্কিত আলোচনা থাকলেও সেগুলোর সমাধান দেওয়া হয় না। হয়তো যারা এগুলো লেখেন বা প্রচার করেন, তাঁদের নিজেদের কাছেও সমাধান নেই। অথচ আমরা জানি-সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হলেও সমাধান বের করা সহজ নয়। মানুষের জীবনে ক্যারিয়ারের সঙ্গে পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, পড়াশোনা, ধর্ম ও কর্ম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এগুলোর সঠিক ব্যবহার ও সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই দেশে-বিদেশে ক্যারিয়ার আরও দৃঢ় ও সুগঠিত হতে পারে। কিন্তু যখন এসব বিষয়ের আগে-পরে আলোচনা না করে কেবল নির্দিষ্ট কোনো দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন তা সাময়িক স্বপ্তি বা সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কেউ উপকৃত হয় না। এই বইয়ে ক্যারিয়ার গড়তে জীবনের আগে-পরে সব দিক নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে, যা একসাথে সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এখানে ক্যারিয়ারে সফল হলে করণীয় ও বর্জনীয় কাজ, চাকরির পর অবসরকালীন সময় কিংবা বিদেশ থেকে ফিরে অবসরে কীভাবে সময় কাটানো যায়-তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই বইয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিটি ধাপ, তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ, সুবিধা-অসুবিধা, সমস্যা হলে করণীয় সমাধান এবং কোথায়-কিভাবে সমাধান পাওয়া যায়-এসব বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই বইটির নাম রাখা হয়েছে- "কি, কেন, কিভাবে এবং কোথায় ক্যারিয়ার গড়া উচিত।" যদিও জীবনের সব সমস্যার সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়, আবার সবকিছু পরিকল্পনা মাফিকও হয় না, তবুও আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি। যেমন-পড়াশোনার মতো পড়াশোনা করলে বা কাজের মতো কাজ করলে এবং সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পরিশ্রম করলে সফল হওয়া অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে আমরা কয়জনই তা বাস্তবায়ন করতে পারি?
Title
দেশে নাকি বিদেশ, কি কেনো কিভাবে কোথায় ক্যারিয়ার গড়া উচিত