‘পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেই দিন, ফিরে আর আসবে কি কখনও?’ গানের মতোই ঝলমলে সোনালি রোদের স্মৃতিমধুর এমন কিছু দিন এসেছিলো আলমের জীবনে। সেই কাছে আসার, সেই ভালোবাসার দিনগুলো কখনও বিস্মরণ হবে না মনের ডায়েরি থেকে। তবে, সময়টা পৌষের কাছাকাছি নয়, পৌষের শেষাশেষি। ২২ শে পৌষ তারিখের এমনই এক স্মৃতিময় ক্ষণে, বন্ধুর নিমন্ত্রণে সুসং দুর্গাপুরে বেড়াতে গিয়েছিল সে। পাহাড়-পর্বত, হ্রদ, নদনদী আর গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ, সবসময়ই তার মনকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। বিশেষত পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথের নৈসর্গিক শোভা ও মায়াকাড়া দৃশ্যাবলি, প্রাণটা জুড়িয়ে দেয়। বন্ধু সালমানের এক কথায়ই, সে তার গ্রামের বাড়ি বিজয়পুর যেতে রাজি হয়ে যায়। সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ জলধারায় গোসল করার তীব্র আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে।
শুধু নদী নয়, সেবার এক নারীও কেড়ে নিয়েছিলো তার মনটা। তিন দিনের জন্য গিয়ে, অবশেষে থাকতে হলো ছয় দিন। বাড়িতে পৌঁছেই সালমান মিনুকে ডেকে আহ্লাদের স্বরে বলেছিল, ‘মিনু, বোন আমার। শুন, আমার খুব পেয়ারের একজন দোস্ত হচ্ছে আলম। বলতে পারিস, জানে জিগার। দেখিস, তার আপ্যায়নের যেন কোনো ত্রুটি না হয়। মিনু জবাব দিয়েছিল, ‘আশা করি কোনো প্রকার সমস্যা হবে না, ভাইয়া। তুমি এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিন্ত থাকতে পারো।’ আলম বলেছিল, ‘ আমার জন্য দেখছি সবার ঘুম হারাম হবার অবস্থা। আমি কিন্তু এ পরিবারের একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবেই দিন তিনেক থাকতে এসেছি। ও সব স্পেশাল গেস্ট কিংবা অনারেবল গেস্ট হিসেবে নয়।’ মিনু ঠোঁটের কোণে একটু মুচকি হাসির রেখা ফুটিয়ে আলমের দিকে মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিল, ‘আলম ভাই, আপনি সেভাবেই থাকবেন। আপনার জন্য এখানে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। বুঝেছেন, মহাশয়।’