দ্য রুলস অব ওয়েলথ বইটির সারসংক্ষেপ
[]
একটা পুরনো প্রবাদ আছে, ‘টাকা, টাকা, টাকা, এটাই তাদের ভাবনার বিষয়’। তবে কথাটা সবার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ প্রকৃত অর্থে টাকা নিয়ে কেউই এভাবে ভাবে না (কেবল মুদ্রা সংগ্রাহক ছাড়া)। আমরা সবাই টাকার পেছনে ছুটি, টাকা হাতে চাই এবং খুব কঠোরভাবে টাকার রক্ষণাবেক্ষণ করি কারণ টাকা দিয়ে আমরা অনেক কিছু করতে পারি।
কিন্তু টাকা দিয়ে ভালোবাসা বা সুখ কেনা যায় না। তবে টাকা দিয়ে অনেক আনন্দ কেনা যায় এবং টাকা অনেক অস্বস্তি দূর করতে পারে। বহু বছর ধরে আমি লক্ষ্য করেছি মানুষ তাদের টাকা মূলত দশটি বিষয়ে খরচ করতে চায়:
১. নিরাপত্তা : নিজের একটা বাড়ি এবং ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা থাকা জরুরি, তাহলেই আপনি আপনার ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করতে পারবেন। সেই সাথে জরুরি মুহূর্তের জন্য কিছু সঞ্চয় আর অবসর জীবনের জন্য পর্যাপ্ত পেনশন থাকাও দরকার।
২. স্বাচ্ছন্দ্য : উষ্ণ ও প্রশস্ত বাড়ি, বড়ো গাড়ি কার না পছন্দ? আবার ঘর পরিষ্কার, লন মাড়াই, কাপড় ধোয়া বা বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য কাজের সহকারী রাখার জন্যও টাকা ব্যয় করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ভালো মানের চিকিৎসার জন্যও টাকা দরকার।
৩. বিলাসিতা : বিদেশ ভ্রমণ, উন্নতমানের মদ, প্রথম সারির রেস্টুরেন্টের খাবার, দামি পোশাক, ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা অপেরায় সেরা আসনটি নিশ্চিত করা বা যা কিছু আপনার আনন্দ আনয়ন করবে সেগুলোর পেছনে টাকা ব্যয় হয়ে থাকে।
৪. চলাফেরার স্বাধীনতা : প্রথম শ্রেণীর ট্রেন বা প্লেনের টিকিট, প্রমোদতরীর ভ্রমণ এবং যেখানেই থাকুন না কেন সেখানে চালকসহ গাড়ি ভাড়া নিয়ে চলাচল করার জন্য টাকা ব্যয় হয়।
৫. সম্মান ও মর্যাদা : মর্যাদাপূর্ণ নিমন্ত্রণ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, বিশেষ ক্লাবে প্রবেশাধিকার লাভ ও অন্যদের কাছ থেকে সম্মান লাভের জন্য মানুষ টাকা ব্যয় করে।
৬. প্রভাব প্রতিপত্তি : আপনি একজন উদার দাতা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। যেন সবাই আপনার মতামত ও ইচ্ছাগুলো গুরুত্বের সাথে নেয়। আর এ কারণেও টাকা ব্যয় হয়।
৭. স্বাধীনতা : মানুষের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সে তার চাকরির নিয়োগকর্তা, বস, ঋণদাতা, ক্লায়েন্ট বা প্রাহকের উপর নির্ভরশীল হতে চায় না। সেই সাথে ক্যালেন্ডার বা দিনপঞ্জি ও সময়সূচির দাসও হতে চায় না। এবং সন্তানদের উপর যেন বোঝা হতে না হয় সে কারণেও মানুষ টাকা সঞ্চয় করে।
৮. অবসর : ইচ্ছেমতো সময় কাটানো, যেখানে খুশি যাওয়া, যাদের সাথে ইচ্ছা দেখা করা- সবটাই নিজের ইচ্ছামতো যেন হয়।
৯. জনপ্রিয়তা : বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন এবং সবসময় যোগাযোগ হয় এমন মানুষদের নিয়মিত এবং উদারভাবে আপ্যায়ন করায় অর্থ ব্যয় হয়। এই ব্যয় আপনার সামাজিক জীবনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১০. দানশীলতা : নিয়মিত এবং বড় অঙ্কের অর্থ দান করার স্পৃহা ও সক্ষমতা থাকলে আপনি অন্যকে সাহায্য করতে পারেন, কোনো সংগঠনকে সমর্থন জানাতে পারেন এবং নিজস্ব বিশ্বাস ও মূল্যবোধের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পারেন। আর এইসব কাজ আপনার মাঝে সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে।