শিক্ষা জীবনের শুরুতে মানব-শিশুকে কী শেখাতে হবে এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। কারণ, এই শিক্ষাগুলো শিশুর মনে সারাজীবন গেঁথে থাকে। এ বিষয়ে আল কুরআন ও সুন্নায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম জাতির শিক্ষা-ব্যবস্থা ঐ দিকনির্দেশনা অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি। মহান আল্লাহ রুহের জগতে নিজে অঙ্গীকার ও ক্লাস নিয়ে যা শিখিয়েছেন তা সুরা আ'রাফের ১৭২ ও ১৭৩ এবং সুরা বাকারার ৩১ নং আয়াতে উল্লিখিত আছে। উল্লিখিত সকল আয়াত হতে জানা যায়-রুহের জগতে মহান আল্লাহ শুধু তাঁর সত্তাভিত্তিক একত্ববাদ, অন্ধঅনুসরণ না করা এবং মানবাধিকারের (বান্দার হক বা ন্যায়-নীতি) বিষয়গুলো শিখিয়েছেন। এরপর ঐ জ্ঞান 'ইলহাম' নামক ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল মানব-ভ্রূণের ব্রেইনে দিয়ে দিয়েছেন। সুরা আশ শামসের ৭ ও ৮ নং আয়াতে এটি উল্লিখিত আছে। অন্যদিকে রসুল মুহাম্মাদ (স.) ৭ বছর বয়সে সালাতের উপদেশ ও ১০ বছর বয়সে সালাত না পড়লে মৃদু শাসন করতে বলেছেন। বর্তমানে শিশুরা ৩.৫-৪ বছর বয়সে স্কুলে যায়। শিশুদের যদি ৭ বছর বয়সে সালাতের (অতীব গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ইবাদাত) উপদেশ দেওয়া আরম্ভ করতে হয়, তবে ৩.৫ বছর হতে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত তাদেরকে কী শেখাতে হবে? সহজে বলা যায়- এই ৩.৫ বছর তাদেরকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শেখাতে হবে রুহের জগতে মহান আল্লাহর নিজে ক্লাস নিয়ে শেখানো বিষয়গুলোকে।
এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা শিশুদের জন্য বাংলা অক্ষর-জ্ঞানের বই 'বাংলা হাতেখড়ি' প্রণয়ন করেছি। যাতে করে সকলে শিশুকাল থেকেই মানবিক গুণাবলি-সম্পন্ন ন্যায়-নীতি পরায়ণ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। হে আল্লাহ! আমাদের এ প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন! ছুম্মা আমিন!!