সম্পাদকীয় :
অনেক দিনের লালিত স্বপ্ন, আম্মাকে নিয়ে একটি কবিতার বই প্রকাশ করবো। কয়েক বছর আগে " নীলু কবিতাটি লিখেছি। একটি বই প্রকাশ বেশ কঠিন কাজ। পর্যায়ক্রমিক অনেক পরিশ্রমের সার্থক রূপায়নে একটি বই আলোর মুখ দেখে। একটি বই প্রকাশ লেখক ও কবির জন্য বিশাল সন্মান ও এক পৃথিবী আনন্দের বিষয়।
" নীলু আমার মায়ের নাম" কাব্যগ্রন্থে পাঠকপ্রিয় কিছু কবিতা স্থান পেয়েছে।
সৌখিন কবি সৈয়দা এরফানা এপুর প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের দুটি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে। যা আমার জন্য অনেক আনন্দের।
কানিজ চৌধুরী "স্মরণীয় বুবু" নামে একটি অসাধারণ হ্নদয় ছোঁয়া কবিতা তার প্রয়াত ফুপুকে উৎসর্গ করেছেন এই কাব্যগ্রন্থে।
নানি সৈয়দা হাসিনা চৌধুরীকে নিয়ে তার ছোট কন্যা ইরিনা চৌধুরীর চমৎকার দুটি কবিতা রয়েছে। আমার ছোট বোন সৈয়দা শারিনাজ রুলির হাজব্যান্ড মরহুম সৈয়দ আবু সালেহ রনির একটি চমৎকার কবিতা এই কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। পঁচিশ বছর আগে কবি নিজেই " থাক চল যাই " কাব্যগ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন। নতুন মুখের চমক থাকছে সবসময়ের মতো। নবীন কবিদের লিখতে উৎসাহিত করা আমার হ্নদয়ের তাগিদ যেন।
বুদ্ধিদীপ্ত ভাবুক কবি সৈয়দ তাজবীক তাহা রচিত দারুন চারটে কবিতা এই প্রথমবারের মতো " নীলু আমার মায়ের নাম" কাব্যগ্রন্থে প্রকাশ পেয়েছে।
সবশেষে, কবি ফাহমিদা হোসেনের মা'কে নিয়ে লেখা একটি ইংরেজী কবিতা প্রকাশ পেয়েছে এই কাব্যগ্রন্থে।
কাছের মানুষ পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণে সত্যি " নীলু আমার মায়ের নাম" কাব্যগ্রন্থটির সার্থক প্রকাশ শেষ পর্যন্ত হলো। আমাদের পুরো পরিবারের জন্য ও মাহিন, রাইয়ান, মেহরাব, ইসাবা আহনাফ এর এটা একটা বড় অর্জন।
আম্মার স্মরণে "নীলু আমার মায়ের নাম" কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ ২০২৬ একুশের বইমেলায়। কাছের মানুষ ও ছোটবেলার বন্ধু খালেদার অনুপ্রেরণায় পাঠকদের ভালোবাসায় আমার এই সার্থকতা।
প্রকাশক মো: নজরুল ইসলাম বিপুল অত্যন্ত সজ্জন মানুষ। তার আন্তরিক উৎসাহে "নীলু আমার আমার মায়ের নাম" অনেক বাঁধা পেরিয়ে একুশের বইমেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে।
আপনাদের সবার কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সবিনয়ে।
মানবজীবনের সুখ দুঃখের কথা এভাবেই লিখে যাই কাব্যের ছন্দে ঘরে।
কাজের সার্থকতা তোমাদের হাসিমুখে।
বাবা মা থাকলে অনেক খুশি হতেন। ঠুনকো কাঁচের পৃথিবীতে কেউই রইবো না অবশেষে। পৃথিবীর রেকর্ড ঘরে থেকে যাবে কর্ম ফল। পৃথিবীর মাটির পরে রয়ে যাবে আমার পদ চিহ্ন।
সৈয়দা শাফিনাজ / ২৬. ০২.২০২৬ ইং।