ত্রিশের দশকের শেষ দিকে ইউরোপে একটা ভয়াবহ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। নাৎসি জার্মানি নাকি এমন একটা ভয়ঙ্কর অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করছে, যার শক্তি যেকোনো বোমার চেয়েও হাজারগুণ বেশি! এই গুজব শুনে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিজ্ঞানীদেরও রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। কারণ, হিটলারের মতো লোক যদি এমন কোনো বোমা হাতে পায়, তাহলে পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ছিলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে একটি চিঠি লিখেন তিনি। আইনস্টাইন নিজে কখনোই বোমা বানাতে চাননি, কিন্তু তার ভয় ছিল হিটলার যদি আগেই বোমাটা বানিয়ে ফেলে তাহলে সর্বনাশ! এই চিঠির পরই অ্যামেরিকা পারমাণবিক বোমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।
তিন বছর চেষ্টার পর ১৯৪৫ সালে গবেষণা সফল হয়। নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে ঘটানো হয় পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ। এই পরীক্ষাটির নাম ছিল ‘ট্রিনিটি টেস্ট’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই জাপানের হিরোশিমা আর নাগাসাকি শহরে ফেলা হয় দুইটি পারমাণবিক বোমা। মুহূর্তের মধ্যে বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল সবকিছু গলে গিয়ে শহর দুইটি প্রায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের বহু বছর পরেও এই অঞ্চলে বহু বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নেয় তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অ্যামেরিকা পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল–আমাদের কাছে এখন এমন একটি অস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে আমরা একটি শহরকে মুহূর্তের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারি। এই শক্তি প্রদর্শন ছিল ভবিষ্যতের পাওয়ার পলিটিক্সের সূচনা। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝতে হলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইতিহাস বোঝাটা খুবই জরুরি। আমাদের জন্য এই কাজটা সহজ করে দিয়েছেন জনাথন ফেটার-ভর্ম। তিনি তার ট্রিনিটি বইতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং এই অস্ত্র তৈরির পেছনের রাজনীতির গল্পটা তুলে এনেছেন কমিক্সের ভাষায়। ইতিহাস, রাজনীতি এবং কমিক্সপ্রেমী সবার জন্য এটি এক দারুণ বই।