ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে আঙুলের ছোঁয়ায় বার্তা আদান-প্রদান হয়তো সহজ হয়েছে, কিন্তু সেখানে ঠাঁই পায়নি চিঠির সেই কালজয়ী আবেগ। প্রাচীন ভারত থেকে রোম, কিংবা বাইবেলের পাতা থেকে আধুনিক সাহিত্য-চিঠি বরাবরই ছিল মানুষের আত্মিক বিকাশের এক অনন্য মাধ্যম। সতেরো-আঠারো শতকের সেই জ্ঞানচর্চার বাহন কিংবা ব্যক্তিগত অনুভূতির গোপন দলিল আজ যেন যান্ত্রিকতার ভিড়ে ম্লান হতে বসেছে।
বিশিষ্ট সংগঠক ও সম্পাদক ফেরদৌসী মজুমদার তাঁর এই সংকলন গ্রন্থে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন সেই হারানো আভিজাত্যকে। মোবাইল স্ক্রিনের তাৎক্ষণিক বার্তার চেয়ে ডাকপিয়নের প্রতীক্ষায় থাকা ব্যাকুলতা কেন আজও আমাদের স্মৃতিকাতর করে? কেন বছরের পর বছর সিন্দুকে জমিয়ে রাখা প্রিয়জনের চিঠি আজও নতুন করে কাঁদায়? এই বই সেই অমীমাংসিত আবেগের এক গভীর অনুসন্ধান।
এখানে সংকলিত চিঠিগুলো কেবল শব্দমালা নয়;
এগুলো একেকটি জীবনবোধ, মান-অভিমান আর দীর্ঘশ্বাসের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কগুলো যখন ক্ষীণ হয়ে আসছে, তখন এই চিঠিগুলো হতে পারে হারানো বাঁধনকে নতুন করে জোড়া লাগানোর এক অদৃশ্য শক্তি। যারা মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পান না, তাঁদের জন্য এটি একটি উন্মুক্ত হৃদয়জগত।
'অঙ্গুরী কাহিনি'-র সাফল্যের পর এই নতুন থিম ভিত্তিক সংকলনটি পাঠকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে সেই সোনালি দিনগুলোতে, যেখানে প্রতিটি অক্ষরে মিশে থাকত প্রাণের আকুলতা। অতীত ভুল শুধরে নেওয়া আর সম্পর্কের মিষ্টতা ফিরে পাওয়ার এক অবারিত সুযোগ লুকিয়ে আছে এই বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে।
ফেরদৌসী মজুমদার জন্ম ১৮ জুন ১৯৪৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও আরবিতে এমএ। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে । বর্তমানে সানবিমস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। ৫০ বছর ধরে মঞ্চ ও টেলিভিশনে অগণিত নাটকে তার নানা ধরনের স্মরণীয় চরিত্রচিত্রণ এখনাে দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। অভিনয় করেছেন দেশের বাইরে ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে । অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেছেন একুশে পদক, জাতীয় টেলিভিশন পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলাে আজীবন সম্মাননা এবং ডেইলি স্টার আজীবন। সম্মাননাসহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননা। বাংলা একাডেমি তাকে দিয়েছে। সম্মানসূচক ফেলােশিপ। স্বামী রামেন্দু মজুমদার ও একমাত্র সন্তান ত্রপা মজুমদার নাটকের জগতে স্বকীর্তিতে উজ্জ্বল।