সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি মানুষকে শিক্ষাদান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের ওপর-যাঁর আদর্শ অনুসরণেই জীবনের সফলতা নিহিত।
শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ, ফিকাহ বিশেষজ্ঞ এবং একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ। শিক্ষকতা ও জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনুকরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর রচিত বহু মূল্যবান গ্রন্থের মধ্যে 'আর-রাসুলুল মুআল্লিম ওয়া আসালিবুহু ফিত তালিম' একটি অমূল্য সম্পদ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাদানের পদ্ধতি, কৌশল এবং কারিকুলাম কেমন ছিল, তা জানার জন্য এই গ্রন্থটি এক অসাধারণ দলিল। এই কিতাবের প্রতিটি অধ্যায় যেন আমাদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো উৎসাহের মাধ্যমে, কখনো উদ্দীপনার মাধ্যমে, কখনো পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে, আবার কখনো দৃষ্টান্ত বা ঘটনার মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষাদান করতেন-সেই সব মনোবিজ্ঞানসম্মত কৌশল শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহ অতি যত্নসহকারে হাদিসের গ্রন্থরাজি থেকে সংকলন করেছেন।
আমরা এই গ্রন্থটির বাংলা নাম দিয়েছি-'নবীজির মাদরাসা: কারিকুলাম, কলাকৌশল, প্রয়োগ পদ্ধতি।' বইটি সরাসরি আরবি থেকে অনুবাদ করা হয়নি। পাকিস্তানের হাফেজ মুহাম্মাদ নাসির মাসউদ হাফিজাহুল্লাহর করা উর্দু অনুবাদ 'রাসুলুল্লাহ কা তরিকায়ে তালিম' থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের অনূদিত এই বইটি শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর কিতাবের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ। অনুবাদে পুরো কিতাব আনা হয়নি।
আশা করি, বাংলা ভাষাভাষী পাঠক, বিশেষ করে তালিবুল ইলম, শিক্ষক, অভিভাবক ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ এই কিতাবটি থেকে প্রভূত উপকৃত হবেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাদান পদ্ধতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারবেন এবং দৈনন্দিন জীবনে সেই অনুপম পদ্ধতিগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করতে সক্ষম হবেন।
আল্লাহ তাআলা শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহ-কে জান্নাতে সুউচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং আমাদের সকলকে এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দিন।
শাইখ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. (১৯১৭–১৯৯৭) সিরিয়ার হালব শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হানাফী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী এবং বিশিষ্ট আলিম, মুহাদ্দিস, ফকীহ ও উসূলবিদ ছিলেন। মিসরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরীয়া ও আরবী ভাষায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সিরিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এবং সিরিয়ার ইখওয়ানুল মুসলিমীনের প্রধান তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বও পালন করেন। তাঁর রচিত ও তাহকীককৃত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৬৭টি। জ্ঞানসাধনা, সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ ও উত্তম চরিত্রের জন্য সমসাময়িক উলামায়ে কিরামের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। ৯ শাওয়াল ১৪১৭ হিজরী রিয়াদে ইন্তিকাল করেন এবং মদীনার জান্নাতুল বাকীতে তাঁকে দাফন করা হয়।