কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, উলূমুল হাদীস শাস্ত্র ও বাস্তবতার আলোকে হাদীসের প্রমাণ্যতা, নিখুঁত সংকলন, সংরক্ষণ ও হাদীস কিভাবে সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় আমাদের পর্যন্ত আসলো ইত্যাদিসহ আরো বহু বিষয় এবং হাদীস অস্বীকারকারীদের সংশয়-সন্দেহের বস্তুনিষ্ঠ খন্ডন সম্বলিত এক অনবদ্য রচনা— 'অথরিটি অফ সুন্নাহ'।
এই গ্রন্থটিকে মোট তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে কুরআন সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামের আমল ও যুগ যুগ ধরে গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমার আলোকে হাদীসের গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং হাদীস অনুসরণের অপরিহার্যতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে শাস্ত্রীয়ভাবে হাদীসের প্রমাণ্যতার বিষয়টি সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। এতে যথাযথভাবে হাদীস সংরক্ষণের জন্য উলামায়ে ইসলামের নজীরবিহীন মেহনত, উলূমুল হাদীসের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার উদ্ভাবন ও সেগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর তৃতীয় অধ্যায়ে সমসাময়িক ও নিকট অতীতে হাদীস অস্বীকারকারীরা যেসব সংশয় 'পরিবেশন' করেছে সেগুলোর মজবুত ইলমী খণ্ডন পেশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে যেহেতু জনাব সজল রোশন সাহেবের পেশকৃত আপত্তিগুলোকেই এ বিষয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ভাবা হয় তাই পর্যালোচনার জন্য তার পেশকৃত মৌলিক সংশয়গুলোকেই নির্বাচন করা হয়েছে। তবে তার পেশকৃত আপত্তিসমূহ ছাড়া আরও যেসব আপত্তিকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে সেগুলোরও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই গ্রন্থটি সম্পর্কে দেশের প্রখ্যাত আলেমে দীন হযরত মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম হাফি. বলেন—
"এর প্রতিটি আলোচনাই অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যসমৃদ্ধ। লেখকের নিবিড় সাধনা, বিস্তৃত অধ্যয়ন ও গভীর চিন্তা-ভাবনার ছাপ পরিলক্ষিত হয় পুরো গ্রন্থ জুড়েই। এখানে সে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তাদের দাবী-দাওয়ার অসারতা প্রমাণ করেছে এবং তুলে ধরেছে তাদের দলীল প্রমাণের বিস্তারিত পর্যালোচনা। ইনসাফের সাথে তা পাঠ করলে আশা করা যায় এ বিষয়ে আর কোনও সংশয় বাকি থাকার কথা নয়। আমার জানামতে, বাংলা ভাষায় এ পর্যন্ত হাদীছ অস্বীকৃতির মতবাদ খণ্ডনে যত গ্রন্থ রচিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সার্বিক বিচারে এ গ্রন্থটিই সবচেয়ে সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধ। আলহামদুলিলাহ।
গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- এতে হাদীছ অস্বীকারকারীদের আপত্তিসমূহের মজবুত খণ্ডনের পাশাপাশি শাস্ত্রীয়ভাবে হাদীছের প্রামাণ্যতার বিষয়টি সবিস্তারে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও সন্নিবেশিত হয়েছে, হাদীছের যথাযথ সংরক্ষণের জন্য উলামায়ে ইসলামের নজীরবিহীন মেহনত, উলূমুল হাদীছ শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার উদ্ভাবন ও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সুবিস্তৃত ও সারগর্ভ আলোচনা। আশা করা যায়, এই বিষয়গুলো অধ্যয়ন করলে পাঠক একদিকে যেমন উলূমুল হাদীছ শাস্ত্রের পরিচিতি, ক্রমবিকাশ এবং এ সংক্রান্ত আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটি ধারণা পাবেন, সেই সাথে এ কথারও স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হবেন যে, হাদীছে নববী সেই আলোকধারা, বিকৃতি যাকে স্পর্শ করতে পারে নি।"