মানুষ চাইলেই সবাইকে ভালোবাসতে পারে না। ভালোবাসার অনুভূতিটা হৃদয়ঘটিত হলেও এর প্রারম্ভিকতা ঐশ্বরিক । যে অনুভূতির উপরে মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না সে অনুভূতির নামই ভালোবাসা। ভালোবাসা ধীরে ধীরে জমে মানুষের চোখের ভাষায়। লুকিয়ে থাকে নিঃশ্বাসে। যেখানে মানুষের উচ্চারিত সকল শব্দ হার মানে নীরবতার কাছে সেখানেই হয় ভালোবাসার শুরু । তেমনই দুজন উন্মাদ প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ের সীমানা অতিক্রম করে একে অপরের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যাওয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মনিকা জাহান এর “শোনো প্রিয় বলি তোমায় “ নামক রোমান্টিক উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
লেখিকার প্রতিটি শব্দে ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকা অবাধ্য প্রেমিকের অন্তরের অনন্ত ঝড় ও হৃদয়ে লুকায়িত অসমাপ্ত প্রেমের কবিতা প্রাণ পেয়েছে। সেইসাথে অবুঝ প্রেমিকার ভালোবাসা, অসীম ত্যাগ ও মোহমায়ার প্রেমময় আবেশ তৈরী হয়েছে। প্রধান চরিত্রের প্রেমিক - প্রেমিকা একে অপরের জন্য জীবনের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার পরেও যখন জীবন তাদের কাছে কেবলই এক শূন্যতার প্রতিধ্বনি তখনই তারা আশ্রয় খুঁজে পায় একে অপরের বুকে। ভালোবাসার মানুষকে আপন করে পাওয়ার তীব্র বাসনা বাস্তবায়িত হলে প্রেমীদের অসম্ভব রকমের আনন্দ হয়। মনের মানুষকে যথাস্থানে বসাতে পারলেই জীবন হয়ে ওঠে ভালোবাসাবাসির কারখানা। গড়ে ওঠে প্রেমের সংবিধান। কবুল বলার সাথে সাথেই ওদের জীবন আপেক্ষিকভাবে পরিবর্তিত হয়,নিজের মনের রাজ্যের সিংহাসন চলে যায় অন্যের দখলে। শুধু মাত্র কয়েকটা দেয়ালকে পুঁজি করেই শূন্য হাতে গড়ে ওঠে মুন-কুইনের লাল নীল সংসার। ওরা কি পারবে ওদের সংসারকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে? হৃদয়ের সমস্ত আনন্দ বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে? ভালোবাসি না বলতে বলতেই ভালোবেসে ফেলার গুরুত্ব কি ওরা জানে? তিনটা কবুলের ওজন কি ওরা বোঝে?
“শোনো প্রিয় বলি তোমায়” যেন এক পাগলাটে প্রেমের গল্প। ভেঙেচুড়ে ভালোবেসে মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানোর গল্প, খুনসুটিতে মেতে থাকা দাম্পত্যের গল্প। সংসার জীবনের আনন্দ-বেদনায় জমে ওঠা টক-ঝাল-মিষ্টি প্রেম কাহিনী। যা সমস্ত প্রেমিক প্রেমিকার না বলা কথা বলে দিতে পারে, সকল স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসায় পরিপূর্ণতা এনে দিতে পারে।
সত্যিই কি উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের প্রেমীদ্বয় প্রেমের অমরত্ব খুঁজে পাবে? ভালোবাসাবাসির সীমারেখা অতিক্রম করতে পারবে? এই অনন্ত প্রেমের পরিণতি কি আসলে? চলুন, জেনে নেয়া যাক, ওরা একে অপরের প্রিয়কে কি বলতে চায়।