আমি আনন্দিত ও গর্বিত-আমার ছাত্রী ড. মাহমুদা খাতুন তার পিএইচ.ডি থিসিসটি
'মঙ্গলকাব্যে নারী' নামে প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছেন। মধ্যযুগ বাংলার ইতিহাসে এক
গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কারণ মধ্যযুগে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান,
নগরসভ্যতা ও প্রযুক্তির প্রভূত বিকাশ ঘটে। সেই সাথে বাংলা সাহিত্যও হয়েছে
সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখা হয়েছে বিকশিত। এর মধ্যে মঙ্গলকাব্য
অন্যতম। মধ্যযুগের ইতিহাসের উপকরণের স্বল্পতা এবং বিশেষ করে সাধারণ
মানুষের জীবনচিত্র তৎকালীন ইতিহাস গ্রন্থে অপ্রতুল হওয়ায় মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য সে
প্রয়োজন মিটিয়েছে অনেকাংশে। সাহিত্যের সাথে মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্বন্ধ
রয়েছে। সাহিত্য মানবজীবনের অভিব্যক্তি। মানবজীবনে যে সব সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না,
চিন্তা-চেতনা দেখা দেয় তারই শিল্পসম্মত রূপ সাহিত্য। মধ্যযুগের বাঙ্গালীদের আর্থ-
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের আকর হিসেবে মঙ্গলকাব্য এক বিশাল তথ্য ভাণ্ডার ।
কাব্যের প্রায় প্রতি ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে রয়েছে বাংলা ও বাঙ্গালীর জীবনোপকরণ যা
বাঙ্গালী নারীদের আত্মপরিচয় নির্মাণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রন্থে মধ্যযুগের বাঙ্গালী
নারীদের দৈনন্দিন জীবন, চিন্তা-চেতনা, চাওয়া-পাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছেদ ও সমাজে তাদের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। ড. মাহমুদার লিখিত মঙ্গলকাব্যে নারী গ্রন্থটি একটি মৌলিক কর্ম। তিনি মধ্যযুগীয় অদৃশ্যমান বাঙালী নারীসমাজকে দৃশ্যমান করেছেন। গ্রন্থটিতে প্রাথমিক উৎস হিসেবে মঙ্গলকাব্যকে অবলম্বন করে মধ্যযুগের বাঙ্গালী নারীর ইতিহাস উদঘাটনের প্রয়াস নেয়া হয়েছে। আমি মনে করি গ্রন্থটি একটি বিশেষ সময়ের (মধ্যযুগ) বিশেষ শ্রেণির (নারী) ইতিহাসের উপাদান হিসাবে সমাদৃত হবে এবং নারী জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উপস্থাপনই গ্রন্থাকারের মূল লক্ষ্য। গ্রন্থটি মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস ও সাহিত্য
বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে বোদ্ধা পাঠক, গবেষক ও সুধীসমাজে আগ্রহ সৃষ্টি করবে বলে আশা করি । পরিশেষে আমি তার সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করি ।
ড. শাহানারা হোসেন