মানুষ ঠিক কেন প্রেমে পড়ে? পৃথিবীতে সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে মানুষ। কিন্তু এর স্বতঃসিদ্ধ কোনো সূত্র তারা আবিষ্কার করতে পারেনি। পাখি উড়তে পারলেও মানুষ কেন পারে না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তারা আবিষ্কার করে ফেলেছে অ্যারোপ্লেন। পৃথিবীর সকল প্লেন ওই এক সূত্র মেনেই আকাশে ওড়ে। মাছের মতো পানির তলায় ডুবে থাকতে পারবে না কেন মানুষ- ভেবে তারা তৈরি করে ফেলেছে সাবমেরিন। জগতের সকল সাবমেরিন সেই স্বতঃসিদ্ধ সূত্র মেনেই জলের তলায় ভেসে বেড়ায়। গাছ থেকে খসে পড়া আপেল কেন ওপরে উড়ে না গিয়ে টুপ করে পড়লো নিচে বসে থাকা নিউটনের মাথায়- সেই প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসা থেকেই তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন মাধ্যাকর্ষণ সূত্র। এমন অসংখ্য জিজ্ঞাসা, প্রশ্ন, কৌতূহল থেকেই মানুষ আবিষ্কার করেছে আরও কত কী! এবং তার প্রতিটিরই রয়েছে সর্বজনগ্রাহ্য, স্বতঃসিদ্ধ এক সূত্র। অথচ কী আশ্চর্য, সৃষ্টির আদি থেকে এই অবধি অসংখ্যবার অসংখ্য মানুষ অসংখ্য প্রশ্ন করেও ‘মানুষ ঠিক কী কারণে, কোন সুনির্দিষ্ট তত্ত্বে প্রেমে পড়ে’ তার কোনো স্বতঃসিদ্ধ, সার্বজনীন সূত্র তারা আবিষ্কার করতে পারেনি। কেউ কথায় মুগ্ধ হয়, কেউ চেহারায়, কেউ আচরণে। কেউ প্রথম দর্শনে। কেউ বা এক যুগ, এক জীবন পেরিয়ে। আবার কেউ অন্য কোনো কারণে। এমনকি যার প্রতি একসময় প্রবল অনীহা কাজ করেছে, কিংবা প্রথম দর্শনেই যার চেহারা, আচরণ, কথায় ত্যক্ত-বিরক্ত অনুভব করেছে, কোনো কারণে তৈরি হয়েছে ঘৃণা- মানুষ প্রেমে পড়েছে তারও। এ এক অদ্ভুত রহস্যময়, অমীমাংসিত সমীকরণ। এই সমীকরণ মেলানোর সর্বজনগ্রাহ্য, স্বতঃসিদ্ধ কোনো সূত্র কি পৃথিবীতে আছে? সম্ভবত নেই।’
স্নাতকোত্তর, নৃবিজ্ঞান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সাদাত হোসাইন নিজেকে বলেন গল্পের মানুষ। তাঁর কাছে চারপাশের জীবন ও জগত, মন ও মানুষ সকলই গল্প। তিনি মনে করেন, সিনেমা থেকে পেইন্টিং, আলোকচিত্র থেকে ভাস্কর্য, গান থেকে কবিতা- উপন্যাস-নাটক, সৃজনশীল এই প্রতিটি মাধ্যমই মূলত গল্প বলে। গল্প বলার সেই আগ্রহ থেকেই একের পর এক লিখেছেন- আরশিনগর, অন্দরমহল, মানবজনম, নিঃসঙ্গ নক্ষত্র, নির্বাসন, ছদ্মবেশ, মেঘেদের দিন ও অর্ধবৃত্তের মতো তুমুল জনপ্রিয় উপন্যাস। ‘কাজল চোখের মেয়ে’, তোমাকে দেখার অসুখ'সহ দারুণ সব পাঠকপ্রিয় কবিতার বই। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বোধ, দ্য শুজ, প্রযত্নের পাশাপাশি' নির্মাণ করেছেন 'গহীনের গান' এর মতো ব্যতিক্রমধর্মী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। জিতেছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকার পুরস্কার, এসবিএসপি-আরপি ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কার, পশ্চমিবঙ্গের চোখ সাহত্যি পুরস্কার, শুভজন সাহিত্য সম্মাননা ও এক্সিম ব্যাংক- অন্যদিন হুমায়ূন আহমদে সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯। তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালের ২১ মে, মাদারীপুর জেলার, কালকিনি থানার কয়ারিয়া গ্রামে।