মেঘ যেমন কখনো বিষণ্ন আবার কখনো রৌদ্রের আলোয় উজ্জ্বল, তেমনি এই গল্পও এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতির। কোথাও বিষাদের ছায়া, কোথাও আবার বিষাদহীনতার নীরবতা। অনুভূতি আর অনুভূতিহীনতার দোলাচলে এগিয়ে চলে কাহিনি; আনন্দের ভেতর লুকিয়ে থাকে ট্র্যাজেডির অনিবার্য উপস্থিতি। প্রেম ও বিচ্ছেদ, বন্ধুত্ব ও বন্ধুত্বহীনতা - সব মিলিয়ে মানুষের সম্পর্কের জটিল বুনন এখানে ধরা দিয়েছে গভীরভাবে।
দুটি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আখ্যান মূলত মানুষে মানুষে সম্পর্কের গল্প। সাধ আর সাধ্যের দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রেম-ভালোবাসা-প্রীতির সূক্ষ্ম অনুভূতি - সবকিছুই একত্রে মিশে এক বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরাধ ও অপরাধবোধের নির্মম বাস্তবতা; আছে হত্যা, প্রতিশোধপরায়ণ সন্ত্রাস, ক্ষমতা ও নীতির জটিল সমীকরণ।
গল্পের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এক গভীর অস্তিত্ববোধ - কেউ যেন কোথাও নেই, আছে শুধু দায়িত্বের ভার আর কিছু করার তাগিদ। কিন্তু নেই অনুপ্রেরণা, নেই কোনো চাহিদা। বেঁচে থাকাটা যেন কেবলই বেঁচে থাকা। তবু জীবন থেমে থাকে না; নিষ্ঠুরতার মাঝেও সে নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়। এই কারণেই বলা যায়, জীবন হয়তো কোনো উপন্যাস নয় - আবার জীবনই সবচেয়ে বড় উপন্যাস।
সব মিলিয়ে "মেঘ বিষাদের গল্প" উপন্যাসটি লেখক শরীফুল হাসান ভাই এর এক গভীর, মানবিক এবং বহুমাত্রিক সাহিত্যকর্ম; যেখানে বাস্তবতা, অনুভূতি ও জীবনের নির্মম সত্য একসাথে মিশে তৈরি করেছে এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা...