প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 28 Mar 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
রাতের নিস্তব্ধতা আচমকা খানখান করে দিল পৈশাচিক হাহাকার। দাউদাউ করে জ্বলছে সাজানো ট্রয় নগরী। আগুনের রাক্ষুসে শিখা যেন গিলে খেতে চায় আকাশছোঁয়া সব প্রাসাদ আর বীরদের দম্ভ। ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর লাশের স্তূপ ঠেলে বুক চিতিয়ে এগিয়ে এলো এক ছায়ামূর্তি—মহাবীর ইনিড। এক কাঁধে অশীতিপর বৃদ্ধ পিতা, অন্য হাতে অবুঝ শিশু সন্তান; ছাই হয়ে যাওয়া জন্মভূমি থেকে অজানার পথে পা বাড়াল সে। পেছনে পড়ে রইল স্বজনদের আর্তনাদ আর ধ্বংসের মহোৎসব।
উত্তাল সমুদ্রের নীল পানি পাড়ি দিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে ভেসে চলল বীরের তরী। নিয়তি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ইতালির তটে, যেখানে লেখা হবে নতুন এক সভ্যতার ইতিহাস—জন্ম নেবে অপরাজেয় রোম। কিন্তু পথ আগলে দাঁড়ালেন স্বয়ং দেবরাজ পত্নী জুনো। প্রাচীন আক্রোশে ফুঁসছেন তিনি, ধ্বংস করতে চান ট্রোজানদের শেষ চিহ্নটুকু। দেবতাদের চক্রান্ত আর দানবীয় সব বাধার মুখে বারবার টালমাটাল হলো ইনিডের জাহাজ।
কার্থেজের রানির মায়াজালে জড়াল বীর। প্রেম আর কর্তব্যের দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হলো তার হৃদয়। কিন্তু ডাকছে ভবিতব্য। প্রিয়তমাকে চোখের পানিতে ভাসিয়ে আবারও পাল তুলল সে। পা রাখল ছায়ার রাজ্য পাতালপুরীতে, যেখানে মৃত আত্মাদের ভিড়ে নিজের ভাগ্য দেখে এলো নিজের চোখে। অবশেষে ইতালির মাটিতে শুরু হলো এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। বীর টার্নাসের সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে কেঁপে উঠল ধরিত্রী। তলোয়ারের ঝনঝনানি আর বর্শার আঘাতে রঞ্জিত হলো লাটিয়ামের মাটি।
এক শতাব্দী প্রাচীন ধ্রুপদী আখ্যানের গাম্ভীর্যের সাথে মিশেছে তলোয়ারের ঝনঝনানি আর হাড়হিম করা রোমাঞ্চ। মহাকাব্যের সেই চিরন্তন বীরত্ব আর আত্মত্যাগের অমর গাথা এবার একদম নতুন আঙ্গিকে। মো. ফুয়াদ আল ফিদাহর কলমে নতুন সাজে উপস্থাপিত এই মহাকাব্যের রোমাঞ্চকর আলোড়নে আপনাকে স্বাগতম।
Md. Fuad Al Fidah জন্মগ্রহণ করেছেন ২৫ জুন, ১৯৮৮ সালে তার নানা বাড়ি সিরাজগঞ্জে। বাবা পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ও মা গৃহিণী। তার জীবনের প্রথম অংশটুকু কেটেছে পাটগ্রাম আর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এস.এস.সি. ও। রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচ.এস.সি. পাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এম. বি. বি. এস. পাশ করেন। লেখালেখিতে তিনি আসেন মূলত শখের বশে।