এটি একটি সিরিজ গল্পের শুরু।
এই সিরিজের মূল চরিত্র শহিদুল। বয়স পঁয়তাল্লিশ। পেশায় সে একজন সরকারি চাকুরে। অর্থ, যোগ্যতা, সম্পদ থাকা স্বত্ত্বেও বাস্তবতার বিচারে তার তেমন কিছু নেই। তার ঋণের টাকায় চারতলা বাড়ি করলেও ছাদের অর্ধেকের তিন রুমের আর ছাদের আংশিক মালিক সে। সংসার থাকা সত্ত্বেও স্ত্রী ও কিছু দোসরদের অত্যাচারে সে আজ বিবাহিত ব্যাচেলর। একমাত্র ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের শুধু বিচ্ছেদ হয়নি। নিজ বাড়ি হলেও তার জন্য আলাদা সিঁড়ির ব্যবস্থা ওঠা-নামার জন্য। কি এক গোজামিল অবস্থা!
শত অত্যাচার অবিচার অপমান সত্ত্বেও শহিদুল সব মুখ বুজে সহ্য করে ও সবকিছু খুব সরলভাবে সে হজম করে। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে সে এই অভ্যেস গড়ে তুলেছে। সে অন্যের ব্যবহারের কারণে নিজের চিন্তা-চেতনার পথ পরিবর্তন করে না। সকাল বিকাল বা তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার বিবরণ সে লেখার চেষ্টা করে।
ব্যক্তি এক হলেও একটি ঘটনা সে বিভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করে। প্রতিটা ঘটনা সে অত্যন্ত নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। তবে সে কোনো চূড়ান্ত ফলাফল দেয়ও না, নিজে ভাবেও না।
এক এক ঘটনায় সে অন্য মানুষের আবেগ বা সমাজের অনেকেই যে সকল বিষয়গুলো এড়িয়ে যায় সেগুলোকেই সে নিজ চিন্তায় লিপিবদ্ধ করে রাখে। জাগতিক প্রায় সবকিছুই সে উপেক্ষা করে চলার চেষ্টা করে। অন্যের ব্যবহার, চাল-চলন, আচার-অভ্যাস সে বিভিন্নভাবে চিন্তা করে ও বোঝার চেষ্টা করে।
শহিদুল তার ৪৫ বছরের জীবনে একটা বিষয় তথ্য প্রমাণ উপাত্তসহকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
“জীবনে চালাক হওয়া সহজ কারণ চালাক মানুষ অনেক বাস্তবতা এড়িয়ে চলে।
সহজ সরল হয়ে চলাটা ঠিক তার উল্টো।
সহজ-সরল জীবনে কোনো কিছুই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
মানুষের জীবনে পূর্ণতা আসে যখন সে এই পথে চলতে শেখে।”
শত বাধা সত্ত্বেও সে শুধু মানুষের উপকারে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। সমাজে তার তেমন কোনো মান-মর্যাদা নেই। মনে মনে অনেকে সমীহ করলেও মুখে তেমন কেউ তাকে মানে না। তবে বিরোধীতাও কেউ করে না তার কোনো ব্যাপারে। বরং বিভিন্ন সমস্যায় পতিত হয়ে মানুষ তার কাছে আসে। কারণ সে অতি গোপনে পরের উপকার করতে পছন্দ করে। অনেক বড়ো সমস্যার সমাধান সে খুব অল্পতেই সমাধান করতে পারে। কিন্তু তার নিজের বেলায় সে পারেনি। কারণ বিপক্ষের শক্তি তাকে মর্যাদা দেয়নি ও বিশ্বাস করেনি।
শহিদুল নিজে ভালো করেই জানে তার এই চিন্তা-চেতনা সমাজ বা ব্যক্তি জীবনে হয়তো কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ সে কোনো বিখ্যাত মানুষ না। তবে মনে মনে সে ভাবে অনেক বিখ্যাত মানুষের কথা। তাঁদের বিভিন্ন চিন্তা তাঁদের জীবদ্দশায় মানুষের মনে স্থান পায়নি। তার অগাধ একটা বিশ্বাস আছে-
“প্রতিটা লেখনিই মুল্যবান যদি সেটা কল্যাণের হয়। ভালোর মূল্যায়ন একদিন হবেই।”
এই সিরিজের প্রতিটি ঘটনা যদিও অতি কাঁচাহাতে লেখা গল্পের আকারে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিটা ঘটনার পেছনেই রয়েছে গভীর আবেগ ও বাস্তবতা যদিও সেটা হয়তো অনেক তুচ্ছ ঘটনা।